Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পাড়া ছাড়ার ফতোয়া, ভিন্ন ধর্মে বিয়ে করায় বাড়িতে এসে হুমকি, নারায়ণপুরের ভিডিয়ো ঘিরে শোরগোল

নিজের বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন হিন্দু পরিবারের এক প্রবীণ ব্যক্তি। তাঁকে হুমকি দিচ্ছেন কয়েকজন যুবক।

পাড়া ছাড়ার ফতোয়া, ভিন্ন ধর্মে বিয়ে করায় বাড়িতে এসে হুমকি, নারায়ণপুরের ভিডিয়ো ঘিরে শোরগোল
  • ৩০ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: নিজের বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন হিন্দু পরিবারের এক প্রবীণ ব্যক্তি। তাঁকে হুমকি দিচ্ছেন কয়েকজন যুবক। হিন্দুপাড়া থেকে প্রবীণের মেয়ে-জামাইকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন তাঁরা। ‘এলাকার কালচার নষ্ট হচ্ছে’ এই যুক্তি দিয়ে যুবকদের বক্তব্য, ‘পাড়ায় থাকতে হলে জামাইকে ধর্ম বদল করতে হবে।’ যদিও পরিবারটির দাবি, ১০ বছর ধরে তাঁরা সেখানে রয়েছেন। 

Advertisement

নারায়ণপুর থানার বেড়াবেড়ি ঘোষপাড়া এলাকায় ঘটেছে ঘটনাটি। এই ফতোয়া দেওয়া নিয়ে প্রায় ৩ মিনিটের একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান। সেটিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে শোরগোল। আচমকা এই সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে কেন? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এলাকায়। সোশ্যাল মিডিয়াতেও উঠেছে প্রতিবাদের ঝড়। জানা গিয়েছে, যে মহিলাকে নিয়ে ফতোয়া তাঁর বিয়ে হয়েছে বছর ১০ আগে। স্বামী মুসলমান। তিনি শ্বশুরবাড়িতেই থাকেন। ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, যুবকরা তাঁদের বাড়ি গিয়ে জিজ্ঞাসা করছেন, ‘বাড়িতে নামাজ পড়ে?’ তারপর বৃদ্ধের মেয়ের নাম করে বলছে, ‘ধর্ম চেঞ্জ করে নিয়েছে?’ এরপরই চলে যাওয়ার ফতোয়া দেন এক যুবক। তাঁদের বক্তব্য, ‘হিন্দুপাড়ার মধ্যে একজন মুসলিম ফ্যামিলি থাকবে? এর ফলে আশপাশের কালচার নষ্ট হচ্ছে। কমপ্লেন আসছে।’ অপর একজন বৃদ্ধকে বলছেন, ‘একজন হিন্দু সনাতন ধর্মের হয়ে কী করে অ্যালাও করছ? আশপাশের লোকজন অভিযোগ করছে। তাই তোমাদের পাড়ার লোক হয়ে বলতে এলাম। এই জিনিসটা দেখ। ধর্ম যখন চেঞ্জ করেছে। তখন অন্য জায়গায় চলে যেতে বল।’  বৃদ্ধ উত্তর দেন, ‘১০ বছর তো হয়ে গিয়েছে।’ এক যুবক তখন বলেন, ‘এতদিন কেউ বলেনি। এইগুলো বলার দায়িত্ব আমাদের।’ বাড়িতে থাকা এক বৃদ্ধা তখন বলেছেন, ‘আমাদের বুড়ো-বুড়ির দেখাশোনা করার কেউ নেই।’ বিজেপি কর্মী উত্তরে বলেছেন, ‘তাহলে জামাইকে ধর্ম চেঞ্জ করতে বলো। তুমি অ্যালাও করলে, আমরা অ্যালাও করতে পারি না। সনাতন ধর্ম শ্রেষ্ঠ ধর্ম। এইগুলো আর টলারেট করা যাবে না। এইগুলোকে লাভ জেহাদ বলে। এইগুলো আর চলবে না এখানে। পরিষ্কার বলে দিয়ে গেলাম।’
এই বিষয়টি নিয়ে রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, ‘এই ঘটনাটি সম্পর্কে আমার জানা নেই। আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। ওই পরিবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হোক। কি ঘটনা ঘটেছে, তা পুলিশ-প্রশাসনকে জানাক।’

সম্পর্কিত সংবাদ