নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সরকারি প্রকল্পে ঘর পেয়েছিলেন বৃদ্ধ দম্পতি। তা দখল করতে উঠেপড়ে লেগেছিল ছেলেরা। শেষপর্যন্ত বৃদ্ধ বাবার মাথায় ইট মেরে থেঁতলে খুন করল দুই ছেলে। সঙ্গ দিল দুই বউমা। শনিবার সকালে জগৎবল্লভপুরের মাজু ঘোষালবাটি এলাকায় এই ভয়ানক ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতের নাম শৈল হাজরা (৬১)।
খুনের পর ছোট ছেলে জয়ন্ত হাজরা এবং পুত্রবধূ আশা ও মঙ্গলা হাজরাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। বড় ছেলে গৌতম পালিয়েছে। বৃদ্ধের দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তে। শৈলবাবুর স্ত্রী সন্ধ্যা দেবী বলেছেন, ‘সরকারি টাকায় ঘর পেয়েছিলাম। সেই ঘরে থাকতে দেবে না বলে ছেলেরা খুব মারত। দুই ছেলে মিলে বাবাটাকে মেরে ফেলল। পুলিস ওদের শাস্তি দিক।’
শৈল হাজরার সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে দুই ছেলের বিবাদ অনেকদিনের। সরকারি প্রকল্পে ঘর তৈরির জন্য টাকা পেয়েছিলেন শৈলবাবু ও সন্ধ্যাদেবী। অভিযোগ, গৌতম ও জয়ন্ত তখন থেকেই টাকা হাতাতে মা-বাবার উপর চাপ দেওয়া শুরু করে। পুত্রবধূরা খেতে পর্যন্ত দিত না। একসময় এই বৃদ্ধ দম্পতি আলাদা থাকতে শুরু করেন। সম্প্রতি আবাস যোজনায় ঘর তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তা শুরুর পর ছেলেরা মা-বাবার উপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ‘ঘর তৈরি হয়ে গেলেও সেখানে থাকা যাবে না,’ বলে হুমকি দেওয়া শুরু করে। অত্যাচারের বিষয়টি জানাতে কিছুদিন আগে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। স্থানীয়রা শনিবার জানান, সকাল থেকে বাবার সঙ্গে তুমুল অশান্তি শুরু করেছিল ছেলেরা। বাবা আর মাকে মারধর করেছিল। তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল দুই স্ত্রীও। হঠাৎ একটি ইটের থান তুলে শৈলবাবুর মাথায় মারে এক ছেলে। শৈলবাবু লুটিয়ে পড়েন। সেই আঘাতে মাথা থেঁতলে যায়। ওই আঘাতেই মৃত্যু হয়েছে বলে মনে হয়। এরপর খবর দেওয়া হয় জগৎবল্লভপুর থানায়। পুলিস বৃদ্ধকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এক ছেলে পালায়। আর বাকি এক ছেলে ও দুই বউমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস।