সংবাদদাতা, পতিরাম: বাবার অত্যাচারে আগেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে মা। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ১২ বছরের ছেলেকে মারধর এবং অত্যাচার চালিয়েছেন বাবা। প্রায় দিনই বাবার অত্যাচার দেখে ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীরা। মদ্যপ বাবার হাত থেকে নাবালককে বাঁচিয়ে চাইল্ড হেল্প লাইনের দ্বারস্থ হয়েছেন গ্রামেরই এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। অভিযোগ পেতেই পুলিস বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিকে ওই নাবালককে বৃহস্পতিবার বালুরঘাটে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তারা তাকে হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে। ঘটনাটি পতিরাম থানার দক্ষিণ কেশবপুর গ্রামের।
পুলিস জানিয়েছে, অভিযুক্ত বাবার নাম রাজেন মুর্মু। তার ১২ বছরের পুত্র সন্তান ভালো করে কথা বলতে পারে না এবং মানসিকভাবেও কিছু সমস্যা রয়েছে। শিশুটি তার বাবার কাছেই থাকত। বাবার অত্যাচারে মা বাড়ি থেকে অন্যত্র চলে গিয়েছে। ঠাকুমাও চোখে দেখেন না। বর্তমানে শিশুটিকে দেখভাল করার কেউ নেই। মাঝেমধ্যেই বাবা মারধর করেন। এমনকী ঠিকমতো খাবারও দেয় না। এমন অত্যাচার দেখে পাশের পাড়ার এক আত্মীয় তথা পেশায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী শিশুটিকে নিজের কাছে এনে রাখেন। কিছুদিন নিজের কাছে রেখে খাওয়া-দাওয়া এবং যত্ন করে ফের বাড়িতে পাঠান। কিন্তু মঙ্গলবার ব্যাপক মারধরের শিকার হয় শিশুটি। এমন দেখে অবশেষে চাইল্ড লাইনে ফোন করে বিষয়টি জানান ওই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। এরপরে চাইল্ড লাইন পুলিসকে জানালে পতিরাম থানার পুলিস অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী আশা সরেন বলেন, ছেলেটি যাতে ভালোভাবে মানুষ হতে পারে, সেজন্য প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সূরজ দাস বলেন, বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। শিশুটির ভবিষ্যৎ যাতে ভালো হয় সেজন্য হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তার বাবার যাতে শাস্তি হয়, সেই বিষয়টিও দেখা হচ্ছে। পতিরাম থানার ওসি সৎকার সাংবো বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।