নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাতে ‘লর্ডস’ লেখা টুপি। মাস কয়েক আগে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে জেতার স্মারক। ‘সিনিয়র সিটিজেন’ রবি বিঠলের জীবনের যা সেরা মুহূর্ত। ফাইনালে চোক করা নয়, অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জয়। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে এমন খুশির মুহূর্ত আগে আসেনি যে!
ক্লাবহাউসের আপার টিয়ারে রবি বিঠলের পাশেই বসে ছেলে বিশান্ত। খেলা শুরুর আগে প্রোটিয়াদের জাতীয় সঙ্গীত বাজার সময় গলা মেলাতে দেখা গেল তাঁকে। আইডেন মার্করাম, রিকেলটনরা বাউন্ডারি হাঁকালে চিল-চিৎকার। আবার আউট হলে মাথায় হাত। বয়স কম, তাই উচ্ছ্বাস বেশি। ভারতীয় বংশোদ্ভূত হলেও আপন করে নিয়েছেন রামধনুর দেশকেই! ক্রিকেটঅন্ত প্রাণ বাবা-ছেলে প্রোটিয়াদের সমর্থনে ঘুরে বেড়ান দেশে-বিদেশে। রবি থাকেন ডারবানে। চাকরির সূত্রে ছেলের ঠিকানা কেপটাউন। আর আদি বাড়ি গুজরাতে। সেখানে এখনও থাকেন আত্মীয়রা। তেমনই এক আপনজনের বিয়ে উপলক্ষে তাঁদের ভারতে আগমন। তারই ফাঁকে বাভুমা-মার্করামদের হয়ে গলা ফাটাতে পিতা-পুত্র পৌঁছে গিয়েছেন ইডেনে। কথা প্রসঙ্গে রবি শোনালেন, ‘কর্মসূত্রে দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়েছিলেন আমার বাবা। সেখানেই পাকাপাকিভাবে থেকে যান। আমার জন্মও ডারবানে। আমিই ফার্স্ট জেনারেশন সাউথ আফ্রিকান। সেটা আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের। তেমনই গৌরব বোধ করি প্রোটিয়া ক্রিকেট দলের সমর্থক হিসেবে।’
১৯৯৪ সালের আগে অবশ্য রবির সেই অনুরাগ ছিল না। প্রবল বর্ণবষৈম্য তখনও সেদেশে। অশ্বেতাঙ্গদের নেওয়া হতো না দলে। সাদারাই ক্রিকেট, রাগবি খেলত। কালো, ভারতীয়দের পাত্তাই দেওয়া হতো না। তা মানতে পারতেন না রবি। ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে গেলেন সেই উত্তাল সময়ে, ‘১৯৯৪ সালে স্বাধীনতার পর নেলসন ম্যান্ডেলা প্রেসিডেন্ট হলেন। তারপরই পাল্টাল ছবিটা। দক্ষিণ আফ্রিকা দলে সবার প্রবেশাধিকার মিলল। আমিও হয়ে উঠলাম ওদের সমর্থক।’ সেই ধারা আরও প্রবলভাবে বয়ে চলছেন বিশান্ত। প্রোটিয়াদের সুপারফ্যানই যেন তিনি!
ঐতিহাসিক ভাবেই ইডেনের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার সম্পর্ক গভীর। ১৯৯১ সালে নন্দনকাননেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন ঘটে তাদের। মহম্মদ আজহারউদ্দিনের সঙ্গে ক্লাইভ রাইসের টস করার ফ্রেম তাই জীবন্ত ইতিহাস। রবি আপ্লুত, ‘মনে আছে, ম্যাচটাতে অ্যালান ডোনাল্ড পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন। আজ সেই ইডেনে বসে প্রিয় দলের খেলা দেখতে পেরে রোমাঞ্চিত।’ একই সুর বিশান্তেরও, ‘লর্ডসে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো এটাও সারাজীবন মনে রাখব। রীতিমতো উৎসবের পরিবেশ। সত্যিই মার্ভেলাস।’