নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: সৎ মেয়ের উপরে লাগাতার যৌন নির্যাতনের মামলায় সৎ বাবাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল চুঁচুড়া আদালত। ওই মামলায় মায়ের বিরুদ্ধে স্বামীকে মদত দেওয়ার অভিযোগ ছিল। তাকেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন চুঁচুড়ার পকসো আদালতের বিচারক চন্দ্রপ্রভা চক্রবর্তী। সরকারপক্ষের আইনজীবী শবনম বেগম বলেন, অত্যন্ত ঘৃণ্য একটি ঘটনা। নিজের নাবালিকা মেয়ে ধর্ষিতা হলেও দ্বিতীয় স্বামীর কুকীর্তিকে সমর্থন করে গিয়েছেন মা। এক বা দু’দিন নয়, দিনের পর দিন ইি ঘটনা ঘটেছে। আমরা দৃষ্টান্তমূলক সাজা চেয়েছিলাম। তা মিলেছে। সরকারপক্ষের প্রবীণ আইনজীবী শংকর গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, নির্যাতিতা বর্তমানে হোমে রয়েছে। তার ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আদালত তাকে সাত লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে ওই ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। নির্যাতিতা মেয়ে তার মা ও সৎ বাবার সঙ্গে হুগলিতে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকত। এক রাতে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে সে প্রতিবেশীদের কাছে সাহায্য চাইলে সেই রাতেই পদক্ষেপ করে পুলিশ। তদন্তে দেখা যায়, নির্যাতিতা গর্ভবতী। তখনই তার সৎ বাবা ও মায়ের ভূমিকা প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ গর্ভপাত করিয়ে ভ্রুণ সংরক্ষণ করে। দিনমজুর সৎ বাবার সঙ্গে সেই ভ্রুণের ডিএনএ মিলে যায়। সেই সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ সরকারি আইনজীবীরা আদালতে পেশ করেন। মোট ২১ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন এই মামলায়।



