Bartaman Logo
১৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভোটে না লড়েই ২০ এমপি, রাতারাতি সংসদে বাংলার বৃহত্তম দল এনসিপিআই

ভোটে না লড়েই ২০ সাংসদ নিয়ে এনসিপিআই পশ্চিমবঙ্গে বৃহত্তম দল হিসেবে উঠেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

ভোটে না লড়েই ২০ এমপি, রাতারাতি সংসদে বাংলার বৃহত্তম দল এনসিপিআই
  • ১৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, হাওড়া ও বারাসত: বাংলায় যে দলের অস্তিত্ব রবিবার দুপুর পর্যন্ত টের পাওয়া যায়নি, রাত গড়াতেই তাদের সাংসদ সংখ্যা সবাইকে ছাপিয়ে গেল। তাই সোমবার সাতসকালেই বাংলায় নয়া রাজনৈতিক দলের তকমা পাওয়া ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’র (এনসিপিআই) ফেসবুক-বার্তা এল—‘২০ জন লোকসভার সাংসদ নিয়ে আমরা পশ্চিমবঙ্গে বৃহত্তম সংসদীয় শক্তি হিসেবে উঠে এসেছি।’ 

Advertisement

তথ্য বলছে, গোটা দেশে বিজেপি বিরোধী দলগুলির মধ্যে লোকসভার সাংসদ সংখ্যার নিরিখে প্রথম স্থানে রয়েছে কংগ্রেস (৯৯ জন)। তারপর সমাজবাদী পার্টি (৩৭ জন)। তৃতীয় স্থানে আছে ডিএমকে (২২ জন)। এরপরই জায়গা করে নিল এনসিপিআই (২০ জন)। আর সেটা ভোটে না লড়েই। পশ্চিমবঙ্গের হিসাব ধরলে লোকসভার সাংসদ সংখ্যার নিরিখে প্রথম স্থানে উঠে এসেছে এনসিপিআই। বিজেপি রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে (১২ জন)। তৃতীয় স্থানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল (৮ জন)। চতুর্থ স্থানে কংগ্রেস (একজন)।
তৃণমূলের বিদ্রোহী এমপি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষদস্তিদারদের সৌজন্যে এনসিপিআই নামক নয়া দলকে নিয়ে এখন গোটা বাংলায় কৌতূহল চরমে। আর মজার বিষয় হল, এই পার্টি নিয়ে যত তথ্য-অনুসন্ধান হচ্ছে, ততই পরতে পরতে মিলছে ‘ভৌতিক’ কাণ্ডের সন্ধান। হওড়া জেলার সাঁকরাইলের প্রত্যন্ত গ্রাম হাটগাছায় সদরদপ্তর এনসিপিআইয়ের। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭-১৮ সাল নাগাদ নদীয়ার রানাঘাট থেকে উত্তীয় কুণ্ডু ও শিউলি কুণ্ডু সেখানে এসে বসবাস শুরু করেন। এর আগে ওই বাড়িতে একটি এনজিও পরিচালিত হত। পরে সেটির দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নেন কুণ্ডু দম্পতি। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাংলায় প্রথমবার তাঁদের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হতে দেখা যায়। এদিন সকাল থেকেই হাটগাছার ওই বাড়ির সামনে উৎসুক মানুষদের ভিড় জমতে শুরু করে। নিরাপত্তার স্বার্থে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীও। তবে দিনভর বাড়িতে দেখা মেলেনি উত্তীয় বা শিউলি কুণ্ডুর। মেয়ে দীপান্বিতা জানান, বাবা-মা রবিবার কলকাতায় গিয়েছেন। 
শিউলি পেশায় আইনজীবী। এদিন তাঁর দেখা মেলে কলকাতা হাইকোর্টের সামনে। তিনি বলেন, ‘২০২২ সালে আমরা এনসিপিআই দল প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়াই করি। কিন্তু আমি সমাজসেবার কাজ করি, আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করি, তাই এক মাস আগে পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছি। আমার স্বামী উত্তীয় কুণ্ডুও এই দলের সদস্য ছিলেন।’ তাঁর সংযোজন, পার্টিটা অনেক বড়ো জায়গায় যাচ্ছে, শুনে ভালো লাগছে। যদিও এদিন সকালে তাল কাটেন এনসিপিআইয়ের আর এক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শান্তনু দে। মধ্যমগ্রামের এই বাসিন্দা নিজেকে দলের সাধারণ সম্পাদক বলে দাবি করেছেন। তৃণমূল সাংসদদের এনসিপিআইতে নাম লেখানোর কথা শুনে প্রথমে কার্যত হতবাক হয়ে যান তিনি। বলেন, ‘ওঁরা কাদের মাধ্যমে আমাদের দলে এসেছেন, তা আমার জানা নেই। যাই হোক আগামীতে রাজনৈতিক কর্মসূচি ওঁদের সঙ্গে আলোচনা করেই করা হবে।’
বর্তমানে হাওড়ার সদরদপ্তর থাকলেও কলকাতাতেও এনসিপিআইয়ের কার্যালয় হওয়া উচিত বলে মনে করে করেন তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকের নেত্রী, সাংসদ শতাব্দী রায়। তাঁর বক্তব্য, এনসিপিআইয়ের আগামী দিনের কর্মকাণ্ড নিয়ে দলীয় স্তরে আলোচনা চলছে। তবে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়করা সেপথে হাঁটছেন না। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এনসিপিআই দলের বিষয়ে আমার কোনো কিছু জানা নেই। আমরা মিশে যাচ্ছি না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ