Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাকা ঘরের আর্জি জানানোর আগেই মর্মান্তিক পরিণতি! মাটির দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু বাবা ও মেয়ের

মাথার উপর একটা পাকা ছাদ হবে, এই আশাতেই বুক বেঁধেছিলেন ৭৬ বছরের বৃদ্ধ নিরঞ্জন প্রধান। নিজের অসহায় অবস্থার কথা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবেন বলে রবিবার বিকেলে রাস্তার ধারে অপেক্ষাও করছিলেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাকা ঘরের আর্জি জানানোর আগেই মর্মান্তিক পরিণতি! মাটির দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু বাবা ও মেয়ের
  • ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ০৯:২৬
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বেলদা: মাথার উপর একটা পাকা ছাদ হবে, এই আশাতেই বুক বেঁধেছিলেন ৭৬ বছরের বৃদ্ধ নিরঞ্জন প্রধান। নিজের অসহায় অবস্থার কথা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবেন বলে রবিবার বিকেলে রাস্তার ধারে অপেক্ষাও করছিলেন তিনি। কিন্তু সেই দেখা আর হল না। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নেমে এল চরম বিপর্যয়। রবিবার গভীর রাতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল তাঁদের ভগ্নপ্রায় মাটির বাড়ি। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল ওই বৃদ্ধ এবং তাঁর ৪৯ বছরের অবিবাহিত মেয়ে দুর্গা প্রধানের। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে বেলদার জাহালদায়। আহত হয়েছেন পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য, তাঁরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

Advertisement

জানা গিয়েছে, রবিবার বিকেলে জাহালদা হয়ে খড়গপুরের একটি বেসরকারি গেস্ট হাউসে দলীয় প্রশিক্ষণ শিবিরে যাচ্ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘদিনের বৃষ্টিতে মাটির বাড়িটি রীতিমতো বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল। তাই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সরকারি সহায়তায় একটি পাকা ঘরের আবেদন জানাতে চেয়েছিলেন নিরঞ্জনবাবু। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি কাটআউট হাতে নিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে নিজের করুণ অবস্থার কথা জানাবেন। কিন্তু সেই সুযোগ তিনি পাননি। আর তাঁর সেই পাকা ছাদের স্বপ্ন চিরতরে চাপা পড়ে গেল মাটির দেওয়ালের নিচেই।

স্থানীয় সূত্রে খবর, চরম অভাবের সংসার নিরঞ্জনবাবুর। একটি তেলেভাজার দোকান চালিয়ে কোনোরকমে দিন চলত তাঁদের। পরিবারে স্ত্রী ছাড়াও রয়েছেন ছোট ছেলে এবং বড় ছেলের বিধবা স্ত্রী। বড় ছেলে আগেই মারা গিয়েছেন, আর ছোট ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ। এই চরম অভাব-অনটনের মধ্যেই তাঁরা স্বপ্ন দেখেছিলেন একটা নিরাপদ আশ্রয়ের।

স্থানীয়দের দাবি, এই অসহায় পরিবারটির দুরবস্থার কথা প্রশাসনও জানত। এর আগে তাঁদের ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়েছিল এবং সরকারি ঘরের জন্য সমীক্ষাও করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ঘর পাওয়ার অপেক্ষা আর শেষ হল না। রবিবার রাতের বৃষ্টিতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে দুর্বল মাটির দেওয়াল। প্রতিবেশীরা তড়িঘড়ি তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বাবা ও মেয়েকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

যে মানুষটি কয়েক ঘণ্টা আগেই চোখেমুখে একবুক আশা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিজের অভাবের কথা তুলে ধরবেন বলে পথ চেয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে জাহালদা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ