Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অসুস্থদের সেবা করাই ছিল ব্রত, ১০৯ বছরে প্রয়াত ফতেপুরের মা

শিব ঠাকুরের মন্ত্রপুত মাটি ও জল রোগগ্রস্তদের দিতেন চঞ্চলা মণ্ডল। দাবি, অনেকেরই রোগমুক্তি ঘটত। অচিরেই চঞ্চলাদেবীকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করা শুরু করে উলুবেড়িয়ার ফতেপুরের মানুষ।

অসুস্থদের সেবা করাই ছিল ব্রত, ১০৯ বছরে প্রয়াত ফতেপুরের মা
  • ১৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: শিব ঠাকুরের মন্ত্রপুত মাটি ও জল রোগগ্রস্তদের দিতেন চঞ্চলা মণ্ডল। দাবি, অনেকেরই রোগমুক্তি ঘটত। অচিরেই চঞ্চলাদেবীকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করা শুরু করে উলুবেড়িয়ার ফতেপুরের মানুষ। সেই ‘ফতেপুরের মা’র মৃত্যু হল বৃহস্পতিবার।

Advertisement

কয়েক হাজার ভক্ত বলছেন, ‘আজ মাতৃহারা হলাম’। এদিন ভোরে উলুবেড়িয়ার ফতেপুরে ১০৯ বছর বয়সে মৃত্যু হয় চঞ্চলা মণ্ডলের। হাজার হাজার ভক্ত এদিন আসেন ফতেপুরের শিব মন্দিরে। চোখের জলে বিদায় জানান মা’কে।
জানা গিয়েছে, উলুবেড়িয়ার ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা কানাই মণ্ডলের সঙ্গে বিয়ে হয় বহিরা গ্রাম পঞ্চায়েতের খুঁড়িঘাটা গ্রামের বাসিন্দা চঞ্চলাদেবীর। বহুবছর আগে স্বামী-স্ত্রী গঙ্গায় স্নান করতে গিয়েছিলেন। তখন একটি পাথরের মূর্তি পান। ভক্তি সহকারে মূর্তি বাড়িতে আনেন। প্রতিষ্টা করেন। পরবর্তীকালে গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় ফতেপুর গ্রামে গড়ে ওঠে শিবমন্দির। ক্রমে শিবের মাহাত্ম্য ছড়িয়ে পড়ে। মন্দিরের টানে বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন ধর্মালম্বী মানুষের ভিড় জমতে থাকে মন্দিরে। অসুখ থেকে মুক্তির আশায় মানুষ ছুটে আসতেন। চঞ্চলাদেবী তাঁদের দিতেন ঠাকুরের জল ও মাটি। ভক্তদের দাবি, তাঁরা বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি পেতেন। ধীরে চঞ্চলা সকলের কাছে হয়ে ওঠেন মা। ভক্তদের সন্তানস্নেহে যত্ন করতেন। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত ১০৯ বছর বয়স অবধি ছিলেন নিরোগ। কোনওদিন কোনও ওষুধই তাঁকে খেতে হয়নি। এদিন মা’র দেহ নিয়ে হরিনাম সংকীর্তন সহকারে গ্রাম প্রদক্ষিণ করেন গ্রামবাসী ও ভক্তরা। শেষযাত্রায় অংশ নেয় হাজার হাজার মানুষ।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ