নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: আজ হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোট। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ৩৩টি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্ধারিত হতে চলেছে ৩৫৬ জন প্রার্থীর ভাগ্য। এর মধ্যে ১৪৩ জনই নির্দল প্রার্থী। তবে বেশিরভাগ কেন্দ্রেই ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে চলেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে মহিলা ভোট। জেলার বিভিন্ন মহকুমায় মহিলা ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেশি হওয়ায় নির্বাচনি সমীকরণে তার প্রভাব নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বারাসত ও বসিরহাট মহকুমায় মহিলা ভোটারের সংখ্যা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, বারাসত মহকুমায় মোট ভোটার ১৩ লক্ষ ৯৬ হাজার ৪৬৬। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ৬ লক্ষ ৮১ হাজার ৫৭৬। অন্যদিকে, বসিরহাট মহকুমায় মোট ভোটার ১৮ লক্ষ ৭৪ হাজার ৬৭৮। যার মধ্যে মহিলা ভোটার ৮ লক্ষ ৯৬ হাজার ৭২৮। অর্থাৎ দুই মহকুমাতেই মহিলা ভোটারের সংখ্যা তাৎপর্যপূর্ণ। যা বহু আসনে ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মত অনেকের। এদিকে, বিচারাধীন ভোটারদের মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় মাত্র ১৩৩ জনের নাম যুক্ত হয়েছে চূড়ান্ত তালিকায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছরে চালু হওয়া একাধিক সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক প্রকল্প— যেমন কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, সবুজ সাথী, রূপশ্রী সহ বিভিন্ন প্রকল্প মহিলা ভোটারদের জীবনে প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলেছে। এই প্রকল্পগুলিকে কেন্দ্র করে মহিলা ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বেড়েছে বলেই মনে
করা হচ্ছে। তবে এই প্রভাব কতটা ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হবে, তা নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে রাজনৈতিক শিবিরগুলির মধ্যে। গ্রামীণ বা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মহিলা ভোটারের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সেখানে নির্বাচনি লড়াইয়ের চরিত্র আলাদা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মহিলা ভোট প্রায় অর্ধেক বা
তার কাছাকাছি হওয়ায় তাঁদের অবস্থান শেষ পর্যন্ত নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে, নির্বাচনি প্রস্তুতিতেও প্রশাসনের বিশেষ নজর রয়েছে। জেলায় মোট ৯০০টি বুথকে স্পর্শকাতর হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে গড়ে দু’টি করে মডেল বুথ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মহিলা পরিচালিত বুথের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৮২। যা ভোট প্রক্রিয়ায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। ভোটগ্রহণের জন্য জেলায় মোট ৮ হাজার ৮৬৯টি বুথে ৩৫ হাজার ৪৭৬ জন ভোটকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে রিজার্ভ কর্মীর ঘাটতি থাকায় ভিন জেলা থেকেও কর্মী আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। নিরাপত্তা ও নজরদারির ক্ষেত্রেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা যায়। এছাড়া জেলায় মোট ৫১৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটের আগের দিন থেকেই বারাসতে ১১৪ কোম্পানি, বসিরহাটে ১২৪ ও বনগাঁয় ৬৪ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মোট ১১ হাজার ৫৯ জন রাজ্য পুলিশ থাকছে ভোটের দায়িত্বে। বারাসত পুলিশ জেলায় ২,০১৩ জন, বসিরহাটে ৩,১২৭ জন ও বনগাঁয় ১,৫৪৯ জন রাজ্য পুলিশকর্মী দায়িত্বে থাকছেন। এনিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনি আধিকারিক শিল্পা গৌরীসারিয়া বলেন, কমিশনের গাইডলাইন মেনে সমস্ত প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। প্রতিটি বুথে আমরা নিয়ম মেনেই সমস্ত কাজ করছি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এবারের নির্বাচনে বড়ো ফ্যাক্টর মহিলা ভোট! এই হাই-ভোল্টেজ এই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসবে কে? কতটা প্রভাব ফেলবে মহিলা ভোট, তার উত্তর মিলবে ৪ মে।