Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বুনো শুয়োরের তাণ্ডবে ফসল নষ্ট, চিন্তায় চাষিরা

বুনো শুয়োরের তাণ্ডবে ফসল নষ্ট, চিন্তায় চাষিরা
  • ২৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: গত কয়েক বছর ধরে রানিতলা থানার আখেরিগঞ্জ অঞ্চলে বুনো শুয়োরের উপদ্রবে জেরবার হচ্ছেন চরের বাসিন্দারা। সন্ধ্যা নামতেই বুনো শুয়োরের দল চাষের জমিতে হানা দিচ্ছে। রাতভর তাণ্ডব চালিয়ে বিঘার পর বিঘা জমির ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে। বছরভর বুনো শুয়োরের তাণ্ডবে বাসিন্দাদের চাষবাস করা একপ্রকার দায় হয়ে উঠেছে। আর্থিক ক্ষতি এড়াতে চরের বাসিন্দাদের একাংশ জমি অনাবাদি রাখছেন। অথচ সীমান্তবর্তী চরের প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের চাষবাসই একমাত্র জীবিকা। কাজেই বিকল্প রোজগারের জন্য অনেকেই কলকাতা সহ অন্যান্য জেলার পাশাপাশি ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। চরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, বুনো শুয়োরের উপদ্রব বন্ধ করতে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়ে পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি।

Advertisement

ভগবানগোলা-২ বিডিও অনির্বাণ সাহু বলেন, চরের ওই এলাকাগুলি বিএসএফের নিয়ন্ত্রাধীনে রয়েছে। কাজেই ওখানে বুনো শুয়োরের উপদ্রব ঠেকাতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার আমাদের এক্তিয়ার নেই। তবুও বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা করব।   
ভগবানগোলা-২ ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে রয়েছে নির্মলচর। নির্মলচরের ঘোষপাড়া, পাইকমারি, পাতিবোনা, শয়তানপাড়া, মাঝচরে কয়েক হাজার পরিবারের বাস। চরের বাসিন্দাদের প্রধান জীবিকা চাষবাস। চরের মাটিতে একাঙ্গি, আলু, মিষ্টি আলু, ভুট্টা, কলাই চাষ খুব ভালো হয়। ওষুধ ও প্রসাধনী শিল্পের অন্যতম প্রধান উপাদান একাঙ্গি চরের বাসিন্দাদের প্রধান অর্থকরী ফসল। বুনো শুয়োরের উপদ্রবে একাঙ্গি চাষ প্রায় বন্ধের মুখে। ঝুঁকি নিয়ে আলু, ভুট্টা ও কলাইয়ের চাষ করলেও ফসল জমি থেকে বাড়িতে আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যায়। ফসল রক্ষা করতে দলবেঁধে পাহারা দিয়ে বিশেষ লাভ হয় না।
ঘোষপাড়ার বাসিন্দা সুনীল মণ্ডল বলেন, দু’বছর পর এক বিঘা জমিতে একাঙ্গি চাষ করেছিলাম। গত এক সপ্তাহ ধরে বুনো শুয়োরের তাণ্ডবে ৯০ শতাংশ গাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে গেলাম। পাইকমারির আইনুল শেখ বলেন, গত পাঁচ-ছ’বছর ধরে বুনো শুয়োরের উপদ্রব অব্যাহত। কোনও ফসল লাগানোর উপায় নেই। চাষবাস বন্ধ রেখে গত তিন বছর ধরে কেরলে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছি। তৃণমূলের আখরিগঞ্জ অঞ্চল সভাপতি কামাল হাসান মিল্টন বলেন, কোনওভাবে বেশ কয়েকটি শুয়োর চরে চলে আসে। বংশবিস্তার করে এখন সংখ্যাটা কয়েক হাজার হয়েছে। দিনের বেলায় মূল পদ্মা সংলগ্ন বড় ঘাসের বনের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। সন্ধ্যা নামতেই চাষের জমিতে হানা হয়। বন্য শুয়োরের দলের উপদ্রবে চরে একাঙ্গি চাষ প্রায় বন্ধ হতে বসেছে। আগে নির্মলচর থেকে সারা বছরে প্রায় এক হাজার কুইন্টাল একাঙ্গি রপ্তানি হতো। গত চার-পাঁচ বছর ধরে কমে ৩০০-৪০০ কুইন্টাল হচ্ছে। ফলে চরের গরিব মানুষগুলি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ