নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: হিমঘরে আলু রাখার সময়সীমা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন চাষিরা। এই সিদ্ধান্তে খুশি ব্যবসায়ীরাও। গত বছর রাজ্যে রেকর্ড পরিমাণ আলু চাষ হয়েছিল। ৫১৯টি হিমঘরে ৭০.৮৫ লক্ষ মেট্রিকটন আলু মজুত হয়েছিল। চাহিদার তুলনায় বেশি আলু উৎপাদন হওয়ায় চাষি এবং ব্যবসায়ীরা চিন্তায় ছিলেন। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত হিমঘরে আলু রাখার সময়সীমা ছিল। এরপর কী হবে, তা নিয়ে তাঁরা উদ্বেগে ছিলেন। চাষি এবং ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে নবান্নের তরফে হিমঘরে আলু রাখার মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করেছে। চাষিদের দাবি, মেয়াদ বৃদ্ধি না হলে আলুর দাম তলানিতে গিয়ে ঠেকত। অনেকেই হিমঘর থেকে আলু বের করতে পারতেন না। সরকার মেয়াদ বৃদ্ধি করায় তাঁরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন।
কৃষি ও বিপণন দপ্তরের মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, রেকর্ড পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়েছিল। সেই আলু সুষ্ঠভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা আমরা করেছিলাম। চাষিদের কথা চিন্তা করে হিমঘরে আলু রাখার মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হিমঘরে আলু সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রোগ্রেসিভ পটেটো গ্রোয়ার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। তাদের দাবি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। কৃষি ও বিপণন দপ্তরের হিসেব অনুযায়ী রাজ্যের হিমঘরগুলি থেকে প্রায় ৮৬ শতাংশ আলু বেরিয়েছে। এখনও যথেষ্ট পরিমাণ আলু মজুত রয়েছে। আর কিছুদিন পর থেকেই পোখরাজ আলু বাজারে আসতে শুরু করবে। তবে, এবছর ভিনরাজ্যে আলু চাষ কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছে। সেই কারণে অন্য রাজ্য থেকে নতুন আলু আসতে সময় লাগবে। সেই কারণে আলুর দাম তলানিতে ঠেকবে না বলেই চাষি ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।
সাতগেছিয়ার আলু ব্যবসায়ী স্বপন মণ্ডল বলেন, এবছর ভিনরাজ্যে সেভাবে আলু যায়নি। হিমঘরের আলু রাখার মেয়াদ না বাড়ানো হলে আরও সমস্যা হতো। আলু চাষি জাহাঙ্গির শেখ বলেন, সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নভেম্বরের শেষে সব আলু বাইরে বের করে দিলে তা বাজারে কেনার লোক থাকত না। চাষিরা বলেন, অক্টোবর মাসে বৃষ্টি হওয়ায় এবছর আলু চাষ পিছিয়ে গিয়েছে। ধান পাকতে দেরি হয়েছে। অন্যান্য রাজ্যগুলিতেও চাষ পিছিয়ে গিয়েছে। হিমঘরে রাখা আলুর উপরই রাজ্যের বাসিন্দাদের নির্ভর করতে হবে। সরকার প্রথম থেকে নজরদারি চালানোয় দাম নিয়ন্ত্রণে ছিল। ব্যবসায়ীরা ভিনরাজ্যেও আলু পাঠিয়েছেন। চাষিদের অভাবী বিক্রি বন্ধ করতে সরকারও আলু কিনেছিল। চাষিরা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার সারের দাম বাড়িয়ে চাষিদের সমস্যায় ফেলে দিয়েছে। চাষের খরচ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। রাজ্য সরকার পাশে না দাঁড়ালে ব্যবসায়ী এবং চাষিরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়তেন।