নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ১৩ টাকা কেজি দরে সরকারকে আলু কেনার দাবিতে জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ সংযুক্ত কিষান মোর্চা। ওই সংগঠনের তরফে একটি প্রতিনিধি দল আজ জেলাশাসকের কার্যালয়ে এসে স্মারকলিপি দেয়।
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ১৩ টাকা কেজি দরে সরকারকে আলু কেনার দাবিতে জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ সংযুক্ত কিষান মোর্চা। ওই সংগঠনের তরফে একটি প্রতিনিধি দল আজ জেলাশাসকের কার্যালয়ে এসে স্মারকলিপি দেয়।
সংগঠনের জলপাইগুড়ি জেলার আহ্বায়ক আশিস সরকারের দাবি, খুচরো বাজারে ২০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু কৃষকরা কেজি প্রতি ৭-৮ টাকার বেশি দাম পাচ্ছেন না। হিমঘর থেকে তাঁদের আলু বের হচ্ছে না। পাইকাররা আলু কেনার ব্যাপারে উৎসাহ দেখাচ্ছেন না। তাঁরা অজুহাত দেখাচ্ছেন, বাইরে আলু যাচ্ছে না। সেকারণে বাজারে আলুর চাহিদা নেই। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের আলুর গাড়ি প্রতি কম করে ৫০ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। জলপাইগুড়ির প্রাক্তন বিধায়ক তথা সংযুক্ত কিষান মোর্চার নেতা গোবিন্দ রায়ের দাবি, কৃষকরা যখন হিমঘরে আলু রেখেছিলেন, তখন ট্রাক প্রতি আলুর রাখতে যা খরচ পড়েছিল, এখন সেই খরচ উঠছে না। ফলে আলু চাষিরা খুবই খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। সেকারণে প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে, সরকার যাতে আলু চাষিদের কাছ থেকে ১৩ টাকা কেজি দরে আলু কেনে তার ব্যবস্থা করতে হবে।
একইসঙ্গে এদিন সংযুক্ত কিষান মোর্চার পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে, সময়ে বৃষ্টি না হওয়ায় জলপাইগুড়ি জেলার প্রায় ২৫ শতাংশ উঁচু জমিতে আমন ধান রোয়া করা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে জেলার আমন ধান চাষিদের জন্য বিশেষ সরকারি প্যাকেজের ব্যবস্থা করতে হবে।
যদিও কৃষি বিপণন দপ্তরের বক্তব্য, আলু নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। গত বছরের নিরিখে হিমঘর থেকে আলু বেরনোর গতি ঠিক আছে। এবার জলপাইগুড়ি জেলায় ৪ লক্ষ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন আলু হিমঘরে মজুত হয়। এ পর্যন্ত ২৫ শতাংশ আলু বেরিয়েছে। প্রশাসন কৃষকের কাছ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে জ্যোতি এবং সাড়ে ১২ টাকা কেজি দরে লাল আলু কিনেছে। এখনও পর্যন্ত জলপাইগুড়ি জেলায় কৃষকের কাছ থেকে প্রশাসন সরাসরি ৬৮২ মেট্রিকটন আলু কিনেছে বলে জানিয়েছেন সহকারী কৃষি বিপণন অধিকর্তা দেবাঞ্জন পালিত। তাঁর দাবি, কৃষক গড়ে ৮ টাকা কেজি দরে জ্যোতি আলু এবং ১০ টাকা কেজি দরে লাল আলু হিমঘরে ঢুকিয়েছিলেন। এবার গোটা দেশেই আলুর উৎপাদন ভালো হয়েছে। সেকারণে আলুর দাম বাড়েনি। ফলে লাভের পরিমাণ কম।