Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সবজির বাজার বাড়াতে এবার অনলাইন অ্যাপের সঙ্গে গাঁটছড়া হুগলির চাষিদের

নাগরিকরা সবজি কিনতে হলেও এখন অনলাইন অ্যাপের সাহায্য নিচ্ছেন। এদিকে জেলায় সবজি উৎপাদনের হার বেড়েছে। তাতে জেলার চাহিদা মেটানোর পরেও পড়ে থাকছে বাড়তি সবজি।

সবজির বাজার বাড়াতে এবার অনলাইন অ্যাপের সঙ্গে গাঁটছড়া হুগলির চাষিদের
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: নাগরিকরা সবজি কিনতে হলেও এখন অনলাইন অ্যাপের সাহায্য নিচ্ছেন। এদিকে জেলায় সবজি উৎপাদনের হার বেড়েছে। তাতে জেলার চাহিদা মেটানোর পরেও পড়ে থাকছে বাড়তি সবজি। একদিকে সুযোগ, অন্যদিকে সমস্যার সমাধান— এই ফর্মুলাতেই এবার ‘সবজি মান্ডি’কে অনলাইন করতে চাইছে উদ্যানপালন দপ্তর। হুগলির সবজি উৎপাদকদের ফসল সরাসরি অনলাইন অ্যাপ বা সেইসব সংস্থার মাধ্যমে বিক্রির পরিকল্পনা করেছেন উদ্যানপালন দপ্তরের কর্তারা। সম্প্রতি উদ্যানপালন দপ্তর জেলার ফার্মার্স প্রডিউসার অর্গানাইজেশনের (এফপিও) সঙ্গে বৈঠক করে। তারপরেই পাঁচটি এফপিওকে অনলাইন অ্যাপগুলির সঙ্গে ব্যবসা করার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এক মাসের মধ্যে তাদের মধ্যে চুক্তি সম্পাদিত হবে বলে জানা গিয়েছে। উদ্যানপালন দপ্তর সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে।

Advertisement

হুগলি জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের আধিকারিক শুভদীপ নাথ বলেন, অনলাইন এখন ঘরে ঘরে। গোটা রাজ্যে তার বিস্তৃতি। হুগলিতে সবজি উৎপাদনের হার আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। তাতে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে অনলাইনে সবজি বিক্রির অ্যাপগুলি আমাদের কাছে বাড়তি সুযোগ এনে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে প্রাথমিক কিছু আলোচনা হয়েছে। আমরা এবার অনলাইন সংস্থাগুলিকে সবজি সরবরাহ করব। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচটি অর্গানাইজেশন দিয়ে ওই কাজ শুরু হবে। তারপর দফায় দফায় তা বাড়ানো হবে। এনিয়ে হুগলি জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মদনমোহন কোলে বলেন, ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সক্ষম হয়েছেন কৃষকরা। তাঁদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর নানা সহায়তা করা হয়। এবার সবজির বাজারকে প্রসারিত করার উদ্যোগ নিয়েছে উদ্যানপালন দপ্তর। যা খুবই প্রয়োজনীয় ছিল। আমরা আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর পরিকল্পনা করছি। দ্রুত তার সুফল পাবেন কৃষকরা। অন্যদিকে, হুগলির সুস্বাদু সবজির স্বাদ পাবেন বাংলার মানুষ। সবচেয়ে বড় কথা, বাড়তি ফসল অপচয় হবে না। হুগলির একটি কৃষকসঙ্ঘের কর্তা বলেন, এই উদ্যোগ আমাদের কাছে নতুন করে সুযোগ এনে দিয়েছে। অনলাইন অ্যাপে বর্তমানে বিরাট বাজার তৈরি হয়েছে। তাতে হুগলির অংশগ্রহণ কৃষক ও কৃষির জন্য বরদানের মতো।
কৃষকের উৎপাদিত ফসলের সঠিক দাম নিশ্চিত করার জন্য সরকারি তরফে উদ্যোগের অভাব নেই। সম্প্রতি কৃষির অনুসারি শিল্প গড়ার ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে। জেলাস্তরে শিল্প পরিকাঠামো গড়ার ব্যাপারে জোর তৎপরতা চলছে। সেই তালে তাল মিলিয়ে জেলার উদ্যানপালন দপ্তর অনলাইনে ‘সবজি মান্ডি’ তৈরির পথ প্রশস্ত করতে চাইছে। ইতিমধ্যেই, হুগলি থেকে কলকাতার বিভিন্ন ফুডমার্ট ও হোটেলে সবজি সরবরাহের প্রকল্প বাস্তবায়িত করা হয়েছে। ফলে, চাষি মহলে নতুন ‘সবুজ বিপ্লব’-এর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ