Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাঠে লকলকে ধানের শিষ, ভালো ফলনের আশায় বুক বাঁধছেন মুর্শিদাবাদের কৃষকরা

পুজোয় কেনাকাটার জন্য ধানের শিষে রং ধরার অপেক্ষায় বহু চাষি চেয়ে থাকেন। এবার দুর্গাপুজোর নির্ঘণ্ট বেশ কিছুটা এগিয়ে এসেছে।

মাঠে লকলকে ধানের শিষ, ভালো ফলনের আশায় বুক বাঁধছেন মুর্শিদাবাদের কৃষকরা
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: পুজোয় কেনাকাটার জন্য ধানের শিষে রং ধরার অপেক্ষায় বহু চাষি চেয়ে থাকেন। এবার দুর্গাপুজোর নির্ঘণ্ট বেশ কিছুটা এগিয়ে এসেছে। এদিকে, অতিবর্ষণ ও পুজো এগিয়ে আসায় চাষিরা ওই সময়ের মধ্যে ধান ঘরে তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। কিন্তু মাঠে, মাঠে ধান গাছের শিষ বের হতেই চাষিদের মন থেকে দুশ্চিন্তার মেঘ সরতে থাকে। বহু চাষিই পুজোর আগে ধান ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশায় বুক বাঁধছেন। শুধু তাই নয় চাষিদের দাবি, বর্ষার প্রভাব ভালো থাকায় এবার জমিতে ‘সোনা’ ফলবে। 

Advertisement

চাষি ও কৃষি দপ্তরের দাবি, বৃষ্টির জল জমির নাইট্রোজেনের ঘাটতি অনেক মিটিয়েছে। অতিবর্ষণে কিছু জমি স্বল্পদিন ডুবে থাকায় পলিমাটি জমির উর্বরতা বাড়িয়েছে। রাসায়নিক সারের সেভাবে প্রয়োগ হয়নি। অতি বর্ষণের পর রোগ পোকার আক্রমণের শঙ্কা থাকে। এবার কিছু জমিতে মাজরা পোকার আক্রমণ রয়েছে। কিন্তু নিয়মিত বৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যুৎ খরচ করে জমিতে জল দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। ফলে এবার আমন চাষের খরচও  কমেছে। কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এবার ধানের ফলনও ভালো হবে। কৃষি দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, এবার ধানের উচ্চ ফলনের বছর। নিচু এলাকার কিছু জমি দীর্ঘদিন ডুবে থাকায় হয়তো ক্ষতি হয়েছে। তবে বন্যার পলিমাটি ভেজানো জলে বহু চাষি উপকৃত হয়েছেন।
দুর্গাপুজো মানেই ছোটরা নতুন জামা, কাপড়ের অপেক্ষায় থাকে।এর বাইরেও পুজোয় গেরস্থালীর খরচ রয়েছে। এই সময়ে প্রান্তিক চাষিদের মনে দুশ্চিন্তার পাহাড় জমে। কীভাবে খরচ জোগাবেন। রোজ মাঠে গিয়ে ধান গাছে হাত বুলিয়ে দেখেন কবে শিষ আসবে। এবার জমিতে, জমিতে ধানে শিষ আসতে শুরু করায় চাষিদের মনে আনন্দের জোয়ার বইতে শুরু করেছে। ধান ঘরে তুলে সেই টাকায় পুজোর কেনাকাটা সারবেন বলে হিসেব কষতে শুরু করেছেন তাঁরা। 
বড়ঞা ব্লকে আগাম আলুর চাষ হয়। আলু চাষের জমিতে আগাম ধান ফলান চাষিরা। ধান তুলেই আলুর জমি তৈরি করেন। পুজোর আগে সেসব জমির ধান ঘরে তুলবেন চাষিরা। 
বড়ঞার চাষি সাক্ষীগোপাল ঘোষ বলেন, শিষের আকৃতি দেখে এবার ধানের ফলন ভালো হবে বলেই আশা করছি।  পুজোর আগেই বেশ কিছু জমির ধান ঘরে তুলতে পারব। ছেলে, মেয়েদের জন্য পুজোর কেনাকাটার চিন্তা দূর হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ