Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাজারে দাম নেই টোম্যাটোর, মাঠেই নষ্ট, ক্ষতির মুখে কাঁকসার চাষিরা

বাজারে দাম নেই টোম্যাটোর, মাঠেই নষ্ট, ক্ষতির মুখে কাঁকসার চাষিরা
  • ১৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০

সংবাদদাতা, মানকর: বাজারে টম্যাটোর দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। প্রতি কেজি টম্যাটো বিক্রি হচ্ছে মাত্র তিন-চার টাকায়। শ্রমিকের মজুরি উঠছে না। তাই জমি থেকে টম্যাটো তোলার জন্য আর খরচ করতে রাজি নন তাঁরা। কাঁকসার আমলাজোড়ায় গাছের পাকা টমেটো গাছেই নষ্ট হচ্ছে। মাঠের পর মাঠজুড়ে এই পরিস্থিতি।

Advertisement

আমলাজোড়া এলাকায় প্রতি বছর বহু চাষি টম্যাটো চাষ করেন। তাঁরা জানান, পাইকারি বাজারে টম্যাটোর দাম নিম্নমুখী। চাষের খরচ বাদ দিয়ে শুধু মাঠ থেকে ফসল তুলে তা বাজারে পাঠাতে যে খরচ হচ্ছে বিক্রি করে সেই টাকাই উঠছে না। কেজিতে খুব জোর হলে তিন টাকা পাচ্ছি। চাষি শঙ্কর সরকার বলেন, এক ক্রেট টম্যাটো পাঠানোর জন্য শ্রমিক, বাজারে পাঠানোর খরচ, পরিশ্রম সব হিসেব করলে কমপক্ষে ৬০-৭০টাকা খরচ হয়। অথচ সেই ক্রেট বাজারে বিক্রি করে মিলছে ৫০-৬০টাকা। সেজন্য অনেকেই আর পকেট থেকে খরচ করে মাঠ থেকে ফসল তুলছেন না। মাঠের ফসল মাঠেই নষ্ট হচ্ছে। চাষি ঊষা বালা বলেন, খরচ করে চাষ করেছি। কিন্তু ফসলের দাম নেই। মাঠেই নষ্ট হচ্ছে টম্যাটো। এই ক্ষতি কীভাবে পূরণ হবে বুঝতে পারছি না। এলাকার চাষিরা জানান, নভেম্বর মাসের দিকে মাঠে টম্যাটোর চারা বসানো শুরু হয়। সেই চারা বড় হয়ে ফল পাকতে প্রায় দেড় মাস সময় লাগে। চাষের জন্য নানারকম রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয়। গাছের পোকা মারার জন্য কীটনাশকের প্রয়োজন হয়। তারসঙ্গে শ্রমিকের মজুরি রয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম নিম্নমুখী হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে চাষিদের। তাঁরা বলেন, ধানের মতোই টম্যাটোও সরকার যদি ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে কিনে নিলে অন্তত চাষের খরচটুকু উঠত। 
কাঁকসা হাটের এক ক্রেতা জানান, চার টাকা কেজি দরে ৬ কেজি টম্যাটো কিনলাম। প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। সস করে বাড়িতে রাখা হবে। হাটের বিক্রেতারা জানান, আগের চেয়ে টম্যাটোর দাম অনেকটাই কম। ফলে ক্রেতারা অনেকেই বেশি করে কিনছেন। কিন্তু দাম কমার কারণ কী? বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে ব্যাপক আমদানি হচ্ছে। পাশাপাশি চাহিদার ঘাটতির জন্যই দাম কমেছে। চাষিরা বলছেন, টম্যাটোর প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে উঠলে চাষিদের সুরাহা হবে। খোলা বাজারে টম্যাটোর দাম না পাওয়া গেলেও তা যদি প্রক্রিয়াকরণ করে সস তৈরি করা যায় তাহলে সারা বছর চাহিদা থাকবে। চাষিদের দু’পয়সা লাভ হবে। 
যদিও টম্যাটোর দাম না পাওয়ার ব্যাপারে জেলা পরিষদের কৃষি, সেচ ও সমবায় কর্মাধ্যক্ষ সমীর বিশ্বাস বলেন, চাষিরা লিখিতভাবে কিছু জানাননি।

সম্পর্কিত সংবাদ