সংবাদদাতা, বহরমপুর: এবছর আলুর সর্বকালীন রেকর্ড ফলন হয়েছে বলে দাবি চাষিদের। ৬৫-৭০ দিন বয়সের আলু বিঘাপ্রতি ১২০-১৪০ প্যাকেট(৫০ কেজি) পর্যন্ত ফলন হচ্ছে। কোনো কোনো জমিতে কাঠা প্রতি আট প্যাকেট আলুও ফলছে। মুর্শিদাবাদের চাষিদের বক্তব্য, এর আগে আলুর এত ফলন দেখা যায়নি। ফলন বেশি হওয়ার কারণ হিসাবে চাষিরা জানিয়েছেন, আলু চাষের সময় জাঁকিয়ে শীত পড়ায় এবার ফলন খুব ভালো হয়েছে। পাশাপাশি জমিতে অনুখাদ্য(ভিটামিন) প্রয়োগও উচ্চ ফলনের অন্যতম কারণ। মাত্রাতিরিক্ত কুয়াশার দাপট, নাবিধসা আক্রমণ না থাকায় এবার আলুর ক্ষতি হয়নি। বাজারে আলুর দাম কম হলেও উচ্চ ফলনের কারণে চাষিদের এবার অপ্রত্যাশিত লক্ষ্মীলাভ হচ্ছে।
মুর্শিদাবাদের রাঢ় অঞ্চলে আলু প্রধান অর্থকরী ফসল। এখন জেলার সর্বত্র অল্পবিস্তর আলু চাষ হয়। তবে বহরমপুর, হরিহরপাড়া, ডোমকল, সাগরদিঘি, বেলডাঙার চাষিরা বাড়িতে খাবারের জন্য প্রয়োজনীয় আলু চাষ করেন। কান্দি, বড়ঞা ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় আলু চাষ হয়। এখানকার চাষিরা কাঁচা অবস্থাতেই জমি থেকে তুলে সিংহভাগ আলু বাজারে বিক্রি করেন। বাকি আলু পাকার পর তুলে বিক্রি ও হিমঘরে রাখেন।
কৃষিদপ্তর সূত্রে খবর, এবার মুর্শিদাবাদে ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। আগাম আলু চাষে মাটির তলায় বহু বীজ নষ্ট হওয়ায় চাষিরা ফলনে ধাক্কা খাবেন বলেই আশঙ্কা করেছিলেন। আগাম চাষে ৬০ দিনের মাথায় আলু তোলেন চাষিরা বিঘা প্রতি ৮০-৯০ প্যাকেট আলু পেয়েছিলেন। তখন অবশ্য প্যাকেট প্রতি ৫৩৫ টাকা দাম পেয়েছেন। গাছের বয়স ৭০ দিন পার হতেই ফলও একলাফে ১২০-১৪০ প্যাকেটে পৌঁছে যায়। আলু চাষি উজ্জ্বল পাল বলেন, এবার ঠান্ডা বেশি থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। আলুর এত ফলন আগে কখনও হয়নি।
মঙ্গলবার চাষিরা প্যাকেট প্রতি ২৬২ টাকা দাম পেয়েছেন। নির্মল ঘোষ বলেন, হিসাব করে দেখলাম খরচ বাদে বিঘা প্রতি ১৪ হাজার টাকার বেশি লাভ পেয়েছি। উচ্চ ফলন হওয়ায় লাভের অঙ্ক বেড়েছে। এবছর আলু চাষিরা ব্যপক হারে অনুখাদ্য প্রয়োগ করেছেন। তাতে ফলন বেশি হয়েছে। কৃষিবিজ্ঞানীদের দাবি, আলু চাষের ৪৫-৫০ দিনের মাথায় অনুখাদ্য প্রয়োগে সুফল মেলে। তার পরে অনুখাদ্য প্রয়োগে অর্থের অপচয় হয়। অনুখাদ্য প্রয়োগ কীটনাশকের মতো ক্ষতিকারক নয়। তবে এই আলু হিমঘরে রাখা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। নিজস্ব চিত্র