নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: চিনির দাম বাড়ায় এবার আখের বাড়তি মূল্য চেয়ে সরকারকে চাপে ফেলেছে কৃষকরা। মোদি সরকারের সিদ্ধান্ত, আখের ‘ফেয়ার অ্যান্ড রেমিউনারেটিভ প্রাইস (এফআরপি) দেওয়া হবে প্রতি টনে (এক হাজার কিলো) ৩ হাজার ৬৫০ টাকা। ২০২৬-২৭ চিনি মরশুমে এই দাম ধার্য হয়েছে। কিন্তু চিনির দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় মহারাষ্ট্রের আখ চাষিরা দামও প্রায় দ্বিগুণ হেঁকেছেন। কৃষকরা জানিয়েছে, আখ কিনতে হলে দিতে হবে টন প্রতি সাত হাজার টাকা। নাহলে তাদের পোষাচ্ছে না। ফসল ফলানোর খরচ উঠছে না। তারই সঙ্গে রয়েছে সরকারের বকেয়া। যা এখনো সবটা মেটায়নি মোদি সরকার।
যদিও সরকার জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ সালের যা বকেয়া ছিল, তার প্রায় ৮৮.৬ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। বকেয়া ছিল ১ লক্ষ ১২ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। মেটানো হয়েছে ৯৯ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা। কিন্তু কৃষক সংগঠনগুলি জানিয়েছে, আখের ক্রয়মূল্য বাড়াতে হবে। এই দাবিতে মহারাষ্ট্রের পুনেয় কৃষকরা বিক্ষোভও দেখিয়েছে। দাবি, চিনির অতিরিক্ত দামে যদি ব্যবসায়ীরা বাড়তি উপার্জন করতে পারে, তাহলে তাদের কেন বাড়তি দাম দেওয়া হবে না? সেই মতো প্রতি টন সাত হাজার টাকা দাম চাইছে আখ চাষিরা।
কৃষকদের প্রশ্ন, চিনির দাম যেখানে ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে, সেখানে আখচাষিরা কেন সেই বৃদ্ধির অনুপাতে বেশি দাম পাবে না? চিনির দামে স্বচ্ছতার দাবি করে আখ চাষিদের বক্তব্য, চিনি বিক্রি এবং কেনার দাম, মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আনতে হবে। সার, বীজ, শ্রমিকের মজুরি এবং অন্যান্য কৃষি-সংক্রান্ত খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে আখচাষিদের পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ বেড়েছে। তাঁদের যুক্তি, চিনির দাম ও চিনিকলগুলির আয় যখন বাড়ছে, তখন তার সুফল আখচাষিরাই বা পাবে না কেন? দ্রুত সরকার দাবি বিবেচনা না করলে প্রয়োজনে আখ কাটা এবং চিনিকলে আখ সরবরাহ বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষকরা। ফলে চাপে মোদি সরকার।