নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ব্যাংকের কর্মী ও অফিসারদের বেতন কাঠামো স্থির হয় তাঁদের সংগঠন এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সংগঠন ইন্ডিয়ান ব্যাংকস অ্যাসোসিয়েশনের (আইবিএ) মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে সেই মর্মে চুক্তি হয়। তাতে সিলমোহর দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। কর্মী ও অফিসারদের অভিযোগ, সেই বৈধ চুক্তি কেন্দ্র মানতে চাইছে না। উলটে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চাইছে। এরই প্রতিবাদে ১১ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে ব্যাংক ধর্মঘট হতে চলেছে। তারপর ২৮-৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিনদিনের ধর্মঘট কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন ব্যাংক কর্মী ও অফিসাররা। তাঁদের হুমকি, প্রয়োজনে লাগাতার ধর্মঘট হবে।
২০২৪-এর মার্চে আইবিএ এবং ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাংক ইউনিয়নসের মধ্যে চুক্তি হয় যে, সপ্তাহে পাঁচদিনের ব্যাংক পরিষেবা চালু থাকবে। দুবছরেও তা কার্যকর হয়নি। আরও সিদ্ধান্ত হয়, ব্যাংকের মুনাফার উপর ভিত্তি করে স্কেল-১ থেকে স্কেল-৭ এর আওতাভুক্ত সকলেই একই হারে ইনসেন্টিভ পাবেন। অভিযোগ, সেই চুক্তি মানা হচ্ছে না। স্কেল-৪ থেকে তার উপরের স্তরের অফিসারদের জন্য ইনসেন্টিভের আলাদা হিসাব কষতে নির্দেশ দিয়েছে অর্থমন্ত্রক। অল ইন্ডিয়া ব্যাংক অফিসার্স কনফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক শুভজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় বলেন, আলাদা হারে ইনসেন্টিভ নিয়ে আমাদের আপত্তি থাকায়, ইস্যুটি এখন বিচারাধীন। আইবিএ-র সঙ্গেও আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে কেন্দ্র এটি জোরপূর্বক চালু করতে চাইছে। এই ধর্মঘট তারই প্রতিবাদে।
বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল ব্যাংক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রাজেন নাগর বলেন, সপ্তাহে পাঁচদিনের ব্যাংক পরিষেবা নিয়ে কেন্দ্রের টালবাহানা ধৈর্যের সীমা ছাড়াচ্ছে। অন্যদিকে পিএলআই ইস্যুতেও আমাদের একাংশের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। উচ্চস্তরের অফিসারদের একাংশ উৎসাহ ভাতা পেলেও বাকিরা মুনাফার ভিত্তিতে ইনসেন্টিভ পাবেন। এই বিভেদের ফলে কর্মীরা উৎসাহ হারাবেন এবং গ্রাহক পরিষেবায় তার প্রভাব পড়তে বাধ্য। আমাদের ধারণা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি করছে। ব্যাংক বেসরকারিকরণের পথে এটি একটি কৌশল বলেই মনে করছি আমরা।