সংবাদদাতা, বহরমপুর: চাষের কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতে ইউনিট প্রতি দু’টাকা ছাড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় দাঁড়িয়েই তিনি এই ঘোষণা করেন। কিন্তু এতে চাষিদের কতটা সুবিধা হবে-তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চাষিদের একটা বড় অংশের অভিযোগ, তাঁদের অনেকের বৈধ কানেকশন থাকলেও হয় মিটার নেই, অথবা সেটি অকেজো। মিটার রিডিং না নিয়েই চাষের জমির পরিমাণ অনুযায়ী গড়পড়তা বিল পাঠানো হয়। সেই বিলই তাঁদের মেটাতে হচ্ছে। সেজন্য চাষিদের দাবি, নিয়মিত মিটার রিডিং নিয়ে সেই অনুযায়ী বিল পাঠানো হোক। তাহলেই তাঁরা উপকৃত হচ্ছেন কিনা-বোঝা যাবে।
বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার রিজিওনাল ম্যানেজার কৌশিক মণ্ডল বলেন, এবিষয়ে বিভাগীয় কোনো গাইডলাইন আসেনি। গাইডলাইন এলে সেইভাবে কাজ করা হবে।
চাষিদের বিদ্যুৎবিল মকুবের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উঠে আসছে। বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইউনিট প্রতি ২টাকা ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, এতে চাষিরা লাভবান হবেন। কিন্তু চাষিদের অনেকেরই যুক্তি, আমন ও বোরো ধান বা সবজি চাষে ঠিক কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে-তা তাঁরা জানতে পারেন না। মিটার রিডিং না নিয়েই তিনমাস অন্তর পাঠানো বিল মেটাতে হচ্ছে। প্রত্যেক চাষির কৃষিজমির পরিমাণও এক নয়। যাঁরা বেশি জমি চাষ করছেন, তাঁরা লাভবান হচ্ছেন। আবার, প্রান্তিক চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বড়ঞার বাসিন্দা নিরঞ্জন ঘোষ বলেন, গত একবছর ধরে আমার মিটার অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। এখন বছরে ৬০হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল মেটাতে হচ্ছে। মিটার থাকলে যতটা বিদ্যুৎ পুড়বে, সেই অনুযায়ী টাকা দিতে পারব। সরকার বিদ্যুৎবিলে ছাড় ঘোষণা করেছে-এতে আমরা খুশি। কিন্তু মিটার রিডিং না নিলে জানতে পারব না, কতটা সরকারি সুবিধা মিলছে। অপর চাষি তুষারকান্তি ঘোষ বলেন, মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার লোক আসে ঠিকই। কিন্তু মিটার রিডিং নেওয়া হয় না। চাষের জমির পরিমাণ অনুমান করে গড়পরতা বিল করে দেওয়া হয়। সেটাই আমাদের মিটিয়ে আসতে হচ্ছে। বেশিরভাগ চাষিই সরকারি ঘোষণায় খুশি। কিন্তু তাঁদের দাবি, মিটার রিডিং নিয়েই বিদ্যুৎবিল দেওয়া হোক। আমনের চাষে সাবমার্সিবল চালিয়ে চলছে সেচের কাজ।