Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এক দফায় সর্বোচ্চ ১৫ কুইন্টাল ধান বিক্রি করতে পারবেন কৃষক, উপকৃত চাষির সংখ্যা বৃদ্ধিতে সিদ্ধান্ত রাজ্যের

আগামী ২০২৫-২৬ খরিফ মরশুমে আরও বেশি সংখ্যক ছোট ও প্রান্তিক চাষির কাছ থেকে সরকারি উদ্যোগে ধান কেনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে খাদ্যদপ্তর।

এক দফায় সর্বোচ্চ ১৫ কুইন্টাল ধান বিক্রি করতে পারবেন কৃষক, উপকৃত চাষির সংখ্যা বৃদ্ধিতে সিদ্ধান্ত রাজ্যের
  • ১০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী ২০২৫-২৬ খরিফ মরশুমে আরও বেশি সংখ্যক ছোট ও প্রান্তিক চাষির কাছ থেকে সরকারি উদ্যোগে ধান কেনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে খাদ্যদপ্তর। বুধবার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে ঠিক হয়েছে, একজন চাষি একদফায় সর্বোচ্চ ১৫ কুইন্টাল ধান বিক্রি করতে পারবেন। গতবার এটা ছিল ৩০ কুইন্টাল। তবে সব মিলিয়ে একাধিক দফায় একজন চাষির সর্বোচ্চ ধান বিক্রির পরিমাণ ৯০ কুইন্টাল রাখা হয়েছে বলে খাদ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। একদফায় বিক্রির পরিমাণ কমানোর জেরে আরও বেশি সংখ্যক চাষি সরকারের কাছে ধান বিক্রি করার সুযোগ পাবেন বলে খাদ্যদপ্তর আশা করছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আরও একটি কারণ হল, চাষিদের নামে ফড়েদের তরফে সরকারের কাছে ধান বিক্রির সুযোগগ্রহণ আরও রুখে দেওয়া। ইতিমধ্যেই এই ব্যাপারে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এখনও ফড়েরা কিছুটা হলেও সক্রিয় আছে বলে খাদ্যদপ্তরের কাছে খবর আসছে। একদফায় ধান কেনার পরিমাণ কমিয়ে ফড়েদের পুরোপুরি আটকাতে চাইছে খাদ্যদপ্তর। রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য‌, ঩অল্প পরিমাণ জমির মালিকদের কাছ থেকে ধানক্রয়। ফলে বেশি সংখ্যক প্রকৃত ছোট চাষি একদফায় ১৫ কুইন্টালের মধ্যে ধান নিয়ে আসেন। চলতি খরিফ মরশুমে সরকারের কাছে ধান বিক্রি করেছেন প্রায় সাড়ে ১৬ লক্ষ চাষি। সেখানে নথিভুক্ত চাষির সংখ্যা ছিল ২৩ লক্ষের কিছু বেশি।  

Advertisement

বুধবার খাদ্যশ্রী ভবনের বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ, পঞ্চায়েত ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার এবং খাদ্যদপ্তর ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকরা ছিলেন। সরকারি উদ্যোগে ধান কেনার প্রক্রিয়ায় রাইস মিল মালিকরা যুক্ত থাকেন। মালিকদের সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মালেক বৈঠকে ফড়েদের আটকানোর জন্য সরকারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। আগামী নভেম্বর থেকে যে খরিফ মরশুমে শুরু হবে সেখানে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৬৭ লক্ষ টন। চলতি মরশুমে এটা ছিল ৬০ লক্ষ টন। এবার এখনও পর্যন্ত ৫৬ লক্ষ টনের বেশি ধান কেনা হয়েছে। এটা সর্বকালীন রেকর্ড। সরকারি উদ্যোগে কেনাক্রয় থেকে যে পরিমাণ চাল পাওয়া যাবে তার ৭৩ শতাংশ সরকারের গুদামে চলে এসেছে। আগামী মরশুমে রাইস মিল মালিকদের সরকারি চাল উৎপাদনের বরাত পাওয়ার জন্য ন্যূনতম ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি ৩৫ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ৬০ লক্ষ টাকা করার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছে মিল মালিকদের সংগঠন। 

সম্পর্কিত সংবাদ