Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লাভ কম, তাই গুড় বানাতে অনিহা জমির আখ বিক্রিতেই ঝোঁক চাষিদের

লাভ কম, তাই গুড় বানাতে অনিহা জমির আখ বিক্রিতেই ঝোঁক চাষিদের
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ থেকে আখের গুড় ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। মজুরের সমস্যায় এই জেলায় আখচাষের জমির পরিমাণ তলানিতে এসে ঠেকেছে। এখন অল্প যে পরিমাণ জমিতে আখ চাষ হয় তার সিংহভাগ চাষিরা আখের রস বিক্রেতাদের বিক্রি করছেন। চাষিদের দাবি, গুড় তৈরির ঝঞ্জাটে না গিয়ে আখ বিক্রিতেই লাভ বেশি। বহু বিক্রেতা নিজেরাই আখ চাষ করে জুস হিসেবেই বিক্রি করছেন। ফলে মুর্শিদাবাদবাসী নির্ভেজাল আখের গুড়ের স্বাদ প্রায় ভুলতে বসেছেন। কবে আখের গুড়ের সোনালি দিন ফিরে আসবে সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন জেলার বহু মানুষ।

Advertisement

একসময় মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রচুর আখ চাষ হতো। এই জেলাতেই সুগার মিল গড়ে উঠেছিল। পশাপাশি ফাল্গুন, চৈত্র মাসে প্রায় প্রতিটি গ্রামে আখের গুড় তৈরির হুড়োহুড়ি পড়ে যেত। গুড় তৈরির সেই গন্ধে বাতাস ম-ম করত। এক সময় গোরু দিয়েই আখ পেশাই করে রস বের করা হতো। পরে মেশিন দিয়ে আখের রস বের করে চাষিরা গুড় তৈরি করতেন। আখ চাষে শ্রমিক না পাওয়ায় ধীরে ধীরে গ্রাম থেকে শাল বিলুপ্ত হতে শুরু করে। এখন বেলডাঙা, ভরতপুর, শক্তিপুর, বড়ঞা এলাকার হাতে গোনা কয়েকটি গ্রামে আখের গুড় তৈরির পেশা এখন টিকে রয়েছে। 
বড়ঞা ব্লকের মির্জাপুরের বাপি ঘোষ বলেন, শালে তৈরি আখের গুড় খুবই সুস্বাদু। বহুদিন বাড়িতে রাখা যায়। আট কাঠা জমি আখ চাষের জন্য ভাগে দিয়েছি। ভাগ চাষিদের সঙ্গে অর্ধেক গুড়ের চুক্তি রয়েছে। খরচ আমার। শ্রম ভাগচাষির। আখ চাষিদের দাবি, এক কাঠা জমিতে সর্বোচ্চ এক টিন বা ২০ কেজি গুড় হয়। যার দাম দু’হাজার টাকা। সেখানে আখ চাষিরা এখন এক কাঠা জমির আখ জমি থেকেই জুস বিক্রেতাদের ৩০০০-৩৫০০ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন। গুড় তৈরির খরচও সাশ্রয় হচ্ছে। বান্ডিল হিসেবে বিক্রিতে লাভের পরিমাণ আরও বেশি হয়। 
বহরমপুর থানার সাহাজাদপুরের বাসিন্দা জাকির হোসেন ৬ বছর ধরে আখের জুস বিক্রি করছেন। জাকির সাহেব বলেন, জমি থেকে ৩৫০-৪০০ টাকা বান্ডিল( সাড়ে চার ফুট উচ্চতা) হিসেবে আখ কিনে আনি। এক বান্ডিল আখে ৪০-৪৫ গ্লাস রস হয়। বহরমপুরে ২০ টাকা গ্লাস হিসেবে রস বিক্রি হচ্ছে। কান্দি থানার জীবন্তি এলাকার শ্রীকান্ত মণ্ডল এক বিঘা জমিতে আখ চাষ করে নিজেই জুস বিক্রি করেন। শ্রীকান্তবাবু বলেন, এক বিঘা জমি অর্ধেক অর্ধেক করে দু’বারে চাষ করি। সারা বছর নিজের জমির আখেই ব্যবসা চলে। গুড় তৈরি করে বিক্রি করার থেকে অনেক বেশি লাভজনক জুস বিক্রি করা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ