সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: সাতগেছিয়ার মাধব পাল বর্ষার সময় ধান চাষের খরচ জোগানোর জন্য হিমঘরে আলু রেখেছিলেন। তাঁর প্রত্যাশা ছিল, আলুর দাম বাড়বে। কিন্তু, হয়েছে উলটো। হিমঘরে রাখা ৫০ কেজি বস্তা আলুর ফ্রি বন্ড ১৫৫ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ হিমঘরে রাখার আলুর দাম চাষিরা কেজিতে চার টাকাও পাচ্ছেন না। চাষিদের দাবি, আলুর ‘বাম্পার’ ফলনের জন্যই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুধু বাংলা নয়, এবার পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে আলুর ফলনও অনেক বেশি হয়েছে। সেই সমস্ত রাজ্যের চাষিরাও প্রত্যাশিত আলুর দাম পাচ্ছে না।
মাধববাবু আরও বলেন, হিমঘরে রাখা আলু বিক্রি করে লাভ হচ্ছে না। সরকারের বিষয়টির দিকে নজর দেওয়া উচিত। এখনো বহু চাষির আলু হিমঘরে মজুত রয়েছে। এই সময় চাষিরা আলু বিক্রি করে ধান চাষের খরচ জোগাড় করেন। দাম না বাড়লে চাষিরা সমস্যায় পড়বেন। ধান চাষ করতে কৃষকদের লোন করতে হবে। আবার চাষি ঋণে জর্জরিত হয়ে যাবে। আর এক চাষি স্বপন মণ্ডল বলেন, সারের দাম প্রতি বছর বাড়ছে। অথচ চাষিরা আলুর দাম পাচ্ছে না। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী দিনে চাষিরা আলু চাষে উৎসাহ হারাবে।
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মরশুমে পূর্ব বর্ধমান সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই আলুর ফলন ভাল হয়েছিল। প্রতিটি হিমঘর ভর্তি হয়ে গিয়েছে। মরশুমের শুরুতেও চাষিরা আলুর দাম পায়নি। মাঠে কার্যত জলের দরে চাষিদের আলু বিক্রি করতে হয়েছে। বর্ষা বা পুজোর মরশুমে আলুর দাম পাওয়ার আশা করেছিলেন কৃষকরা। এবারের নির্বাচনে আলু ভোট প্রচারের অন্যতম মূল ইস্যু হয়ে উঠেছিল। রাজনৈতিক দলগুলি চাষিদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেয়। এখন রাজ্যের ক্ষমতা পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলায় কি না, সেটাই দেখার। গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, আমাদের সরকার কৃষকদের জন্য এবারের বাজেটে বিভিন্ন প্রকল্প ঘোষণা করেছে। আগামী দিনে আলু চাষিদের সমস্যা থাকবে না। আগের সরকারের ভুলের জন্যই চাষিরা সমস্যায় পড়েছেন। আমাদের সরকার ঘোষণা করেছে, চাষি বা ব্যবসায়ীরা ভিনরাজ্যে আলু পাঠাতে পারবে। আগের সরকারের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। আগের সরকার কয়েক বছর অন্য রাজ্যে আলু পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিল। ওই রাজ্যগুলি বিকল্প ব্যবস্থা করেছে। তাই বাংলার অতিরিক্ত আলু বিক্রি করতে সমস্যা হচ্ছে।
চাষিরা বলেন, আগামী দিনে আলুর দাম আদৌ বাড়বে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। প্রতিটি হিমঘরেই প্রচুর পরিমাণে আলু মজুত রয়েছে। অন্য রাজ্যেও আলুর চাহিদা নেই। তাই আলু নিয়ে চাষিরা সমস্যায় পড়ে গিয়েছেন। চাষিদের অনেকেই বলছেন, আলু নিয়ে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার বিকল্প ভাবনা চিন্তা কিছু করবে। সেই আশাতেই তাঁরা বুক বেঁধে রয়েছেন।