নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: এক ক্লিকেই মুশকিল আসান। তা সে হোটেল হোক, হোম-স্টে বা গাড়ি বুকিং। সবটাই একটি অ্যাপে। রাজ্য সরকারি পর্যটন অ্যাপ। ভ্রমণপিপাসু বাঙালির পথঘাট মসৃণ করতে এমনই উদ্যোগ রাজ্যের। মূল উদ্দেশ্য অবশ্যই ছড়িয়ে যাওয়া প্রতারণার জাল থেকে আম জনতাকে রক্ষা। মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে পর্যটন ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠকে এমনটাই জানিয়েছেন দপ্তরের মন্ত্রী শংকর ঘোষ। তাঁর বার্তা, ‘আমরা চাই না, বাংলায় ঘুরতে আসা পর্যটকরা প্রতারণার শিকার হোক। অসাধু কোনো চক্র পর্যটকদের ঠকিয়ে বদনাম করুক বাংলার। সেকারণে অ্যাপ আনছি। ওই অ্যাপে নির্ভরযোগ্য ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল অপারেটর কিংবা এজেন্ট থেকে হোটেল-রিসর্ট বা হোম-স্টে এমনকী ট্রান্সপোর্ট, সবকিছুর উল্লেখ থাকবে। মূলত যাঁরা রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের গাইড লাইন মেনে চলবেন, তাঁদের স্থান দেওয়া হবে ওই অ্যাপে। সরকারি ওই অ্যাপে থাকা তালিকা থেকে পর্যটকরা তাঁদের পছন্দের ডেস্টিনেশনে ঘুরতে যাওয়ার জন্য হোটেল হোক বা হোম-স্টে, কিংবা গাড়ি বুক করতে পারবেন।’
অনেক সময় অনলাইনে কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন সংস্থার নাম করে পর্যটকদের আকর্ষণীয় অফার দেওয়া হয়। কিন্তু পর্যটকরা বুকিং করে শেষমেশ ঠকেন। তখন টাকা ফেরত চাইলে ঝামেলা বাঁধে। এ ধরনের খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়ে পর্যটকরা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন, উত্তরবঙ্গে এমন একাধিক নজির রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা রুখতে এবং পর্যটকদের বুকিংয়ের ক্ষেত্রে একশো শতাংশ আস্থা জোগাতে পর্যটন অ্যাপ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দপ্তর সূত্রে খবর।
এদিন পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘অ্যাপ তৈরির কাজ চলছে। শীঘ্রই তা প্রকাশ করা হবে।’ তাঁর বার্তা, ‘আমরা দায়িত্বশীল পরিবেশবান্ধব পর্যটন উপহার দিতে চাই। বাংলার দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাঙালিদের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপনের টার্গেট নেওয়া হয়েছে।’ মন্ত্রী বলেন, ‘পর্যটনের প্রসারে ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিংয়ে জোর দিচ্ছি আমরা। তবে পরিবেশ নষ্ট করে পর্যটন নয়। মেরিন পর্যটনের ক্ষেত্রেও দীঘা ও মন্দারমণিকে অন্যতম গন্তব্য হিসাবে গড়ে তুলতে যেমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তেমনই প্রকৃতিপ্রেমী ট্যুরিস্টদের কাছে গজলডোবাকে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু করতে রাজ্যের পর্যটন দপ্তর কাজ করবে।’
এদিনের বৈঠকে বলা হয়, সরকারি গাইডলাইন মানতে হবে। হোম-স্টে লিজ বা ভাড়া দেওয়া চলবে না। সেক্ষেত্রে বাতিল হতে পারে রেজিস্ট্রেশন। বন্ধ হতে পারে সরকারি ইনসেন্টিভ। অনেক হোম-স্টে ইনসেন্টিভ নিয়ে নন অপারেশনাল রয়েছে। সেগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে অডিট হবে।
পর্যটনের প্রসারে পরিকাঠামো উন্নয়ন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্য ও কেন্দ্রের তরফে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে এদিনের বৈঠকে দাবি করেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা। বলেন, ‘বাগডোগরায় যাতে আরও বেশি উড়ান ওঠানামা করতে পারে, সেজন্য পরিকাঠামো বাড়ছে। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাতায়াতে তৈরি হবে বিকল্প হাইওয়ে। ডিপিআর তৈরির কাজ চলছে। এছাড়া তিস্তা থেকে লেবং, আর লেবং থেকে তিনমাইল পর্যন্ত তৈরি হবে সার্কুলার রোড। এতে দার্জিলিংয়ের পথে যানজট অনেকটাই কমবে। সেইসঙ্গে পাহাড়ে বেশ কয়েকটি রোপওয়ে নিয়ে কথাবার্তা চলছে। এর মধ্যে ঘুম থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত আট কিমি পথে রোপওয়ে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।’