Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জিআই স্বীকৃতির পর শান্তিনিকেতনী বাটিক ও একতারাকে প্রতিষ্ঠার প্রয়াস

জিআই স্বীকৃতির পর শান্তিনিকেতনী বাটিক ও একতারাকে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত পড়ুন।

জিআই স্বীকৃতির পর শান্তিনিকেতনী বাটিক ও একতারাকে প্রতিষ্ঠার প্রয়াস
  • ১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পর এবার শান্তিনিকেতনী বাটিক ও বাউলের একতারাকে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বভারতী ও বীরভূম জেলা প্রশাসন যৌথ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। শান্তিনিকেতনী বাটিক এখানকার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশ্বভারতী ও জেলা প্রশাসনের লক্ষ্য, এই ঐতিহ্যকে সংরক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরে সুপ্রতিষ্ঠিত করা।

Advertisement

শান্তিনিকেতনী বাটিকের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের পরিবারের সঙ্গে। ১৯২১ সালে প্রতিমা দেবী রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে প্যারিসে গিয়ে বাটিক শিল্পের সঙ্গে পরিচিত হন। এর কৌশল শিখে শান্তিনিকেতনে ফেরেন। ইউরোপীয় পদ্ধতির জটিলতার কারণে সেই সময় এই শিল্প সাধারণের মধ্যে তেমনভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। ১৯২৭ সালে জাভা গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেখানকার ঐতিহ্যবাহী বাটিক শিল্পে মুগ্ধ হয়ে তিনি এই শিল্পচর্চাকে শান্তিনিকেতনে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেন। তাঁর উৎসাহে রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও প্রতিমা দেবী বাটিকের কৌশল আত্মস্থ করেন। পরে জাভার শিল্পরীতিকে ভারতীয় নন্দনতত্ত্বের সঙ্গে মিলিয়ে নতুন রূপ দেন শিল্পাচার্য নন্দলাল বসু। তাঁর কন্যা গৌরী ভঞ্জ, যমুনা সেন এবং আরও অনেক শিল্পীর হাতে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে স্বতন্ত্র পরিচয়ের ‘শান্তিনিকেতনী বাটিক’।  বাংলার আলপনা, প্রকৃতি, লোকজ নকশা এবং রবীন্দ্র-ভাবনার মেলবন্ধনই এই শিল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য। হাতে আঁকা সূক্ষ্ম নকশা, মোম ও রঙের বিশেষ প্রয়োগ এবং কোমল রঙের ব্যবহার শান্তিনিকেতনী বাটিককে অন্য সব ধারার থেকে আলাদা করেছে। বর্তমানে শাড়ি, ওড়না, কুর্তা, গৃহসজ্জার সামগ্রী, ব্যাগ ও নানা হস্তশিল্পে এই শিল্পের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশ-বিদেশে। অন্যদিকে, জিআই স্বীকৃতি পাওয়া বাউলের একতারাও বীরভূমের লোকসংস্কৃতির অন্যতম পরিচয়। লাউ, বাঁশ, চামড়া ও একটি তার দিয়ে তৈরি এই বাদ্যযন্ত্র বহু শতাব্দী ধরে বাউল গানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে এই বাদ্যযন্ত্র নির্মাণ ও ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কলাভবন, শিল্পসদন এবং বাউল অ্যাকাডেমিকে যুক্ত করে প্রশিক্ষণ, গবেষণা, ডিজিটাল আর্কাইভ, প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক উৎসব ও আন্তর্জাতিক প্রচারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিল্পী ও কারিগরদের বাজার সম্প্রসারণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের পূর্বাঞ্চল সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের অধিকর্তা আশিস কুমার গিরি জানান, বাটিক শিল্পের পাশাপাশি বিলুপ্তপ্রায় লোকবাদ্য সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ঐতিহ্যকে ইউনেসকোর স্বীকৃতির আওতায় আনার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
বিশ্বভারতীর প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক সবুজকলি সেন বলেন, শান্তিনিকেতনের বাটিক শিল্পের ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও প্রতিমা দেবী। পরে কলাভবন ও শিল্পসদনের মাধ্যমে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষও জানান, জিআই স্বীকৃতি এই ঐতিহ্যকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে। ভবিষ্যতে রাজ্য সরকারকে এই বিষয়ে যে কোনো কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে সহযোগিতা করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ