সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: আজ ১৫ আগস্ট। স্বাধীনতা দিবস। লালকেল্লায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এটাই কি শেষবার? সেপ্টেম্বরেই ৭৫ বছরে পা দিচ্ছেন তিনি। তারপরই কি নেতৃত্বের বয়সসীমার দলীয় নিয়মকে শিরোধার্য করে বিদায় নেবেন? বৃহস্পতিবার থেকেই জোর জল্পনা দেশজুড়ে। ইতিপূর্বে ১১বার লালকেল্লা থেকে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কিন্তু ২০১৮ অথবা ২০২৩ সালের মতো লোকসভা ভোটের ঠিক আগের বছরেও এমন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়নি। কমবেশি ধরেই নেওয়া হচ্ছিল, আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন তিনি। এবার কিন্তু পরবর্তী লোকসভা ভোট চার বছর দূরে। অথচ স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দেশজুড়ে আলোচনা চলছেই যে, এটাই কি লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর অন্তিম বক্তৃতা? অবশেষে সেই ক্ষণ উপস্থিত। আজ, শুক্রবার লালকেল্লায় নরেন্দ্র মোদির ভাষণেই হবে সব জল্পনার অবসান! সরকারের আগামী দিনের একঝাঁক পরিকল্পনা ঘোষণার মাধ্যমে অবসরের যাবতীয় চর্চা উড়িয়ে কি আবারও কার্যত বার্তা দেবেন যে, তিনি থাকছেন? লম্বা ইনিংস এখনই সমাপ্ত হচ্ছে না! নাকি আজই তাঁর ভাষণে পাওয়া যাবে প্রচ্ছন্ন অথবা প্রত্যক্ষ বিদায়বাণী?
অন্য বছরগুলির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাক স্বাধীনতা ভাষণ প্রস্তুতির কোনও পাথর্ক্য যদিও এদিন চোখে পড়েনি। এবারও মোদি দেশবাসীর কাছে আবেদন করেছিলেন, স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে কোন কোন ইস্যুর দিকে আলোকপাত করা দরকার, সেটা নমো অ্যাপ অথবা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জানাতে। সরকারি ও দলীয় সূত্রের খবর, আজ লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার সিংহভাগজুড়ে থাকবে অপারেশন সিন্দুরের সাফল্য। পাশাপাশি আসবে আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিজ্ঞা তথা আরও বেশি করে স্বদেশি ব্যবহারের কর্মসূচির উপর গুরুত্বপ্রদান। এমনকী তিনি মার্কিন বাণিজ্য শুল্কের উত্তরোত্তর বৃদ্ধি এবং ট্রাম্পের সব হুমকির জবাব দেবেন বলেও মনে করা হচ্ছে। যদিও জল্পনা হল, সরাসরি আমেরিকার নামোচ্চারণ করবেন না মোদি। এদিনও কিছু কঠোর বাক্য ব্যবহার করে বলবেন, ভারত কোনও চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কী কী পরিকল্পনা ও প্রকল্প নিচ্ছে এবং নেবে, সেই বিষয়ে মোদি যে যথারীতি বেশ কিছু দিশানির্দেশ দেবেন, সেটা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। কিন্তু দেশের আম জনতা এবং রাজনৈতিক মহলের প্রবল আগ্রহ একটিই বিষয়ে—সেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি তিনি নিজেই পরিচালনা করে যাবেন? এব্যাপারে স্পষ্ট আভাস কিংবা ঘোষণা করে দেবেন প্রধানমন্ত্রী? সোজা কথায়, সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত যতই নানারকমভাবে চাপ দিন যে, ৭৫ বছর বয়স হল উত্তরাধিকারীকে দায়িত্ব অর্পণ করে অবসরে চলে যাওয়ার সময়, তা মোদি গ্রাহ্য করছেন কি না, সেটা জানাবেন। তিনি যে ক্রমেই অমিত শাহকে নিজের উত্তরাধিকারী হিসেবে স্থির করে যাচ্ছেন, সেই ইঙ্গিত ইদানীং অনেক প্রকটভাবেই মিলছে। অপারেশন সিন্দুর নিয়ে রাজ্যসভায় সরকারের জবাবী ভাষণ দিয়েছেন অমিত শাহ। গত সপ্তাহে এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকেও তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মোদি। বলেছেন, অমিত শাহের সামনে অনেক বড় দায়িত্ব ও পথ অপেক্ষা করে আছে। কিন্তু সেটা কি এই বছরই? নাকি সব জল্পনার অবসান ঘটাতে মোদি আজই কিছু সারপ্রাইজ দেবেন? -ফাইল চিত্র