প্রীতেশ বসু, কলকাতা: পঞ্চায়েত নির্বাচন মানেই বোমা গুলি খুনোখুনি। বিগত বেশ কিছু ভোটে এই চিত্রই দেখে এসেছে গ্রাম বাংলা। কিন্তু অন্ধ্রপ্রদেশে ১২৫ দিনে কাজের পরিদর্শনে গিয়ে কার্যত চক্ষু চড়কগাছ পশ্চিমবঙ্গের আধিকারিকদের! ঝামেলা অশান্তি তো দূরের কথা, পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন জমা চললেও তার ছিঁটেফোঁটা প্রভাব পড়েনি মাঠেঘাটে চলা ভিবি জি রামজি প্রকল্পের কাজে। উলটে অন্যান্য দিনের তুলনায় ওইদিন বেশি সংখ্যক শ্রমদিবস সৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে।
বর্তমানে ১২৫ দিনের কাজ প্রকল্পে শ্রমদিবস সৃষ্টির ক্ষেত্রে তামিলনাড়ুর পরেই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ। অন্যদিকে, একেবারে তলানিতে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। ফলে এই প্রকল্পে রাজ্যকে চাঙা করতে বিজয়া দশমীর পরের দিন পঞ্চায়েত দপ্তরের চার পদস্থ কর্তার একটি প্রতিনিধি দল অন্ধ্রপ্রদেশে পাঠিয়েছিল নবান্ন। তিনদিনের সফরে ওই রাজ্যের পদস্থ এবং প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি একাধিক এলাকা ঘুরে দেখেন বাংলার প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তখনই তাঁরা জানতে পারেন যে, ওইদিন অন্ধ্রপ্রদেশে পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়নপত্র পেশের কাজ চলছে। কিন্তু, তা নিয়ে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনকে বাদ দিলে মাঠপর্যায়ে ১২৫ দিনের কাজে ব্যস্ত তেমন কাউকেই অতিব্যস্ত হতে দেখা যায়নি বলেই রাজ্যের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন।
১ জুলাই শুরু হয়েছে ১২৫ দিনে কাজ প্রকল্প। আর চারমাসেই অন্ধ্রপ্রদেশে সৃষ্টি হয়েছে পাঁচ কোটির বেশি শ্রমদিবস। সেই জায়গায় পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ৫০ লক্ষ শ্রমদিবস সৃষ্টি হয়েছে। এই তফাত কেন? অন্ধ্রপ্রদেশে গিয়ে দেখা গিয়েছে, হেক্টরের পর হেক্টর অনুর্বর জমি চিহ্নিত করে সেখানে নানান ধরনের গাছ লাগানো হচ্ছে। আবার রাস্তাঘাটসহ অন্যান্য পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য রয়েছে পৃথক পঞ্চায়েত ইঞ্জিনিয়ারিং ডাইরেক্টরেট। ফলে কী কাজ হবে তা চিহ্নিত করাই গ্রাম পঞ্চায়েতের মূলে কাজ। পরিকাঠামো উন্নয়নের মূল কাজ করছে ইঞ্জিনিয়ারিং ডাইরেক্টরেট। ফলে এরাজ্যেও এমনই একটি ডাইরেক্টরেট স্থাপন নিয়ে ভাবনা চিন্তা শুরু হয়েছে দপ্তরের অন্দরে। সেক্ষেত্রে বর্তমানে অবস্থিত ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট রুরাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির পুনর্গঠন বা সংযুক্তিকরণ ঘটিয়ে এমন একটি ডাইরেক্টরেট গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেই সূত্রের খবর।
পশ্চিমবঙ্গ ১২৫ দিনের কাজে ১৪ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ পেয়েছে। ফলে চলতি অর্থবর্ষে প্রায় ৩০ কোটি শ্রমদিবস তৈরির টার্গেট রয়েছে। তার মধ্যে হয়েছে মাত্র ৫০ লক্ষ। পশ্চিমবঙ্গ আবাসের ১৮ লক্ষ ৬৫ হাজার উপভোক্তাকে ভিবি জি রামজি প্রকল্প থেকে ৯০ দিন করে কাজের মজুরি দেওয়া হবে। ওই সূত্রে প্রায় ১৫ কোটি শ্রমদিবস সৃষ্টি হবে। হিসাব কষেছে দপ্তর। বাকি কাজও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করার জন্য অমৃত সরোবর প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে ২০০টি পুকুর কাটার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। আরও রয়েছে নতুন পঞ্চায়েত ভবন নির্মাণ প্রকল্প।



