নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋণ।’ কুলি মজুর কবিতায় কাজী নজরুল ইসলামের এই পংক্তি কি শুনতে পাচ্ছেন মোহন বাগান ফুটবলার ও কর্তারা? গত মরশুমে সুপার কাপ, এবার কলকাতা লিগ ও ডুরান্ড কাপে ব্যর্থতার জ্বালা আর সহ্য করতে পারছেন না সমর্থকরা। গোদের উপর বিষফোঁড়া হল, এসিএল-টু’এর ম্যাচে খেলতে ইরান না যাওয়া। তাই সেই ক্ষোভের ধারার সাক্ষী যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। মাঠে ঢোকার আগে সমর্থকদের রোষের মুখে পড়লেন ফুটবলাররা। তাঁদের তির তিন অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলার ও ম্যানেজমেন্টের দিকে। সবুজ-মেরুন অনুরাগীরা ঘিরে ধরেন ম্যাকলারেন, কামিংসদের গাড়িও। ‘কাওয়ার্ড’ প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানে তখন সরগরম যুবভারতীর তিন নম্বর গেটের চত্বর।
বিক্ষোভকারী এক সমর্থক জানালেন, ‘বহুদিন ধরেই আমাদের মনে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। গত মরশুমে যুদ্ধের আবহে এসিএল-টু’র ম্যাচ খেলতে ইরান যায়নি ক্লাব। ফলে প্রতিযোগিতা থেকে তাদের ছেঁটে ফেলে এএফসি। এরপর মরশুম শেষ না হলেও সুপার কাপের আগে বিদেশি ফুটবলারদের ছেড়ে দেওয়া হল কেন? এছাড়া কলকাতা লিগে জুনিয়র দল নামিয়ে ডার্বি হার, ডুরান্ড কাপের অনুশীলন দেরিতে শুরু হওয়া, ডুরান্ড ডার্বিতে হার— বলতে পারেন আর কত কী সহ্য করতে হবে? ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল চলতি মরশুমে এসিএল টু’এর ম্যাচ ফের ওয়াকওভার দেওয়ায়। কিন্তু মোহন বাগান কর্তৃপক্ষ সবসময় বলে, আমরা শুধু ভারতসেরা নয়, এশিয়া সেরা হতে চাই। কিন্তু কথায় ও কাজে এত পার্থক্য কেন?’
পরিস্থিতির আঁচ আগেই পেয়েছিল মোহন বাগান ম্যানেজমেন্ট। তাই প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডের বাইরে এদিন বাউন্সার ছাড়াও মোতায়েন ছিল পুলিশ। প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডের সামনে দাঁড়াতে না পারায় বিক্ষোভকারীরা জমায়েত হন তিন নম্বর গেটের সামনে। অনুশীলন সেরে ফেরার পথে সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেন ম্যাকা-দিমিরা। কামিংসের আরামসে তখন উধাও। ফ্যাকাসে মুখে আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণে ব্যস্ত তিনি।
উত্তপ্ত আবহাওয়ার মধ্যেই আইএফএ শিল্ডের প্রস্তুতি সারলেন কোচ হোসে মোলিনা। বৃহস্পতিবার প্রথম ম্যাচে সবুজ-মেরুনের প্রতিপক্ষ গোকুলাম কেরল। প্রথমে ঘণ্টাখানেকের ফিটনেস অনুশীলন। তারপর প্রায় ৪৫ মিনিটের ম্যাচ সিচুয়েশন প্র্যাকটিস। এই পর্বে আলবার্তোকে স্টপারে রেখে তিন ডিফেন্ডারের মহড়া সারলেন তিনি। মাঝমাঠে এদিনও দীর্ঘক্ষণ অনুশীলন করলেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। বাঁ-প্রান্তে বেশ সচল দেখাল রবসনকে।