কানপুর: সকাল থেকে মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঘরে ঢুকতেই চক্ষু চড়কগাছ অভিভাবকদের। গোটা ঘর এলোমেলো। বিছানায় পড়ে সাপের খোলস। অন্তত ৫ ফুট দৈর্ঘ্যের। পাশে রাখা কয়েকগাছা চুড়ি, কানের দুল। পড়ে আছে পোশাকও, যা গত রাতে মেয়ের পরনে ছিল। তড়িঘড়ি থানায় ছুটল সবাই। যোগ দিল গ্রামের আরও অনেকে। নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ জানিয়ে পুলিশের কাছে অদ্ভুত তত্ত্ব খাড়া করল তারা। সমবেত দাবি, এই মেয়ে ‘ইচ্ছাধারী নাগিন’। সাপের রূপ ধরে কোথাও চলে গিয়েছে।
সিনেমা নয়, এমনটা ঘটেছে বাস্তবেই, উত্তরপ্রদেশের আউরাইয়ার সিঙ্গনপুর গ্রামে। সোমবার সকাল থেকে সেখানে ব্যাপক শোরগোল। ভয়ে তটস্থ গোটা গ্রাম। কারণ, গ্রামের মেয়ে রীনা অলৌকিকভাবে উধাও হয়ে গিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে বিষয়টা দেখতে আসেন পুলিশ আধিকারিকরা। ততক্ষণে রীনার বাড়ির সামনে উপচে পড়া ভিড়। ঘরের মধ্যে থাকা পোশাক ও গয়না দেখিয়ে বাড়ির লোকজন পুলিশকে জানায়, সেগুলি রীনার পরনে ছিল। বাড়ি ছাড়ার আগে ফেলে গিয়েছে। তবে এমন আজগুবি তত্ত্বে মোটেও বিশ্বাস করেনি পুলিশ। শুরু হয় খোঁজ। তাতেই সামনে আসে আসল সত্যি। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের সন্দেহ হয়, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত হতে পারে। পরে তদন্তে উঠে আসে, দীর্ঘদিন ধরেই পাশের গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল রীনার। কিছুদিন আগে বাড়ি থেকে অন্যত্র বিয়ে ঠিক করলে পালানোর সিদ্ধান্ত নেয় সে। বিয়ে এড়াতেই রীনা কৌশলে ‘নাগিন নাটক’-এর ছক কষেছে বলে আন্দাজ করেন তদন্তকারীরা। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে রীনার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। রীনার পাশাপাশি পাশের গ্রামের ওই যুবকও নিখোঁজ। বিষয়টা জানার পর রীনার পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়েছে। তবে এই ঘটনার প্রসঙ্গে পুলিশ আধিকারিকরা সাফ জানিয়েছেন, অলৌকিক বা রহস্যময় কিছু হয়নি। সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে বাড়ি থেকে পালিয়েছে রীনা।