কুন্তল পাল, বনগাঁ: শান্ত, স্বল্পভাষী ছেলে। আর সেই প্রহ্লাদ দাসই কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত! এটা বিশ্বাসই করতে পারছেন না গাইঘাটার মহিষাকাঠির বাসিন্দারা। তবে, পুলিশের গুলিতে প্রহ্লাদের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও পড়শিরা অবশ্য বলছেন, অপরাধের শাস্তি হয়েছে। এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রহ্লাদের ভাই ধ্রুব দাস। তাঁর বক্তব্য, এই অপরাধে দাদা একা জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার ছিল। আসল সত্য আড়াল করতেই কি তড়িঘড়ি গুলি চালানো হল?
গাইঘাটার রামচন্দ্রপুর বাজার থেকে প্রায় দু’কিলোমিটার দূরে মহিষাকাঠি গ্রাম। পিচ রাস্তার ধারে ইটের দেওয়াল। টিনের চালের পাশাপাশি দু’টি ঘর প্রহ্লাদদের। একটি ঘরে থাকত প্রহ্লাদ, অন্যটিতে ভাই ধ্রুব। বারান্দায় থাকেন বাবা রামপ্রসাদ ও মা রেখাদেবী। ভাই হাওড়ায় হোটেলে কাজ করেন। বাবা রামপ্রসাদ দাস সেলুন চালান। গোবরডাঙা হিন্দু কলেজে কলা বিভাগে পড়ত প্রহ্লাদ। আর্থিক সমস্যার কারণে দ্বিতীয় বর্ষের পর পড়াশোনা ছাড়তে হয় তাকে। সম্প্রতি রামচন্দ্রপুর বাজারে নিজেই সেলুন খোলে। প্রতিবেশী ঋতিষা দাসের কথায়, আগে প্রহ্লাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। এই কাজ ও কীভাবে করল, বুঝতে পারলাম না। গ্রামের বাসিন্দা স্বপন ঘোষের চায়ের দোকানে মাঝেমধ্যে বসত প্রহ্লাদ। স্বপনের কথায়, অন্যান্য ছেলেরা এসে নেশা করলেও প্রহ্লাদকে তা করতে দেখিনি।
সোমবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের আগে প্রহ্লাদকে বাড়িতে নিয়ে আসে পুলিশ। তখন ভাইকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলে সে। কাঁদতে কাঁদতে ধ্রুবকে বলে, সে ভুল করেছে, ক্ষমা করে দিতে। মা-বাবাকে দেখে রাখার কথাও বলে যায়। এরপর বারান্দায় এসে মায়ের কাছে জল চায়। এক গ্লাস জল খেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ছাড়ে। ধ্রুব বলেন, দাদার শরীরী ভাষা দেখে বুঝেছিলাম, রাতে কিছু একটা হতে পারে। হলও তাই! তাঁর আরও দাবি, কিশোরী প্রায়ই দাদার সেলুনে যেত। বাবা ও দাদা তাকে নিষেধও করে। কিন্তু শুনত না। আমার মনে হয়, এই অপরাধ দাদার একার পক্ষে সম্ভব নয়। আসল সত্য চাপা দিতেই কি তড়িঘড়ি দাদাকে গুলি করা হল? তবে সত্যি যদি দাদা দোষ করে থাকে, তাহলে শাস্তি পেয়েছে। সেক্ষেত্রে পুলিশের এনকাউন্টারের পদক্ষেপকে সমর্থন করছি।
ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় বাবা রামপ্রসাদ বলছেন, অপরাধের উপযুক্ত শাস্তি পেয়েছে ছেলে। মা রেখাদেবীর কথায়, ছেলে অন্যায় করেছে। ওকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। কঠোর শাস্তি চেয়েছিলাম, এনকাউন্টার চাইনি। নির্যাতিতার পরিবারও অভিযুক্তের মৃত্যুকে শাস্তি হিসাবেই দেখছে। মৃতা কিশোরীর মামিমা বলেন, ও আমাদের আত্মীয়। এত বড়ো অপরাধের ঠিক শাস্তিই হয়েছে। মেয়েকে হারানোর যন্ত্রণা বুকে নিয়ে নির্যাতিতার বাবা বলেন, আমার মেয়েটাই চলে গেল। এখন আর বলার কী থাকবে! এই কথা বলতে বলতে চিবুক ভিজে গেল তাঁর। এনিয়ে বনগাঁ পুলিশ জেলার সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্তকে ফোন করা হলেও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।



