Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গর্ভে নেই সন্তান, বাচ্চা চুরির অভিযোগে বিক্ষোভ পরিবারের ,‘ফ্যান্টম প্রেগনেন্সি’ নিয়ে তোলপাড় নদীয়া সদর হাসপাতাল

সন্তান প্রসবের দিন নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন আশা দিদি। সেই মতো নদীয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন নবদ্বীপের গৃহবধূ মাম্পি খাতুন।

গর্ভে নেই সন্তান, বাচ্চা চুরির অভিযোগে বিক্ষোভ পরিবারের ,‘ফ্যান্টম প্রেগনেন্সি’ নিয়ে তোলপাড় নদীয়া সদর হাসপাতাল
  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সন্তান প্রসবের দিন নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন আশা দিদি। সেই মতো নদীয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন নবদ্বীপের গৃহবধূ মাম্পি খাতুন। পরীক্ষা-নীরিক্ষার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়, গর্ভে কোনও সন্তান নেই! এমন কথা শোনার পরই তুলকালাম কাণ্ড বাঁধিয়ে দিলেন মাম্পির পরিবারের লোকেরা। ‘বাচ্চা চুরির’ অভিযোগ তুলে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের সঙ্গে তুমুল তর্কে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। তা নিয়ে বুধবার রাতে তেতে ওঠে হাসপাতাল চত্বর। পরে বধূর স্বামী কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার বেলার দিকেও হাসপাতালের সামনে একপ্রস্থ বিক্ষোভ দেখানো হয়। জরুরি বিভাগের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সাময়িকভাবে চিকিৎসা পরিষেবা লাটে ওঠে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

Advertisement

হাসপাতালের সুপার জয়ন্ত সরকার বলেন, ‘আমরা ওই মহিলার কোনও অপারেশন করিনি। আমরা পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে জানিয়ে দিই, ওঁর পেটে কোনও বাচ্চা নেই। চিকিৎসা শাস্ত্রের পরিভাষায় যাকে বলে ফ্যান্টম প্রেগনেন্সি বা সিউডোসাইসিস।’

অভিযোগকারী তথা মাম্পির স্বামী আরিফ শেখের অবশ্য দাবি, ‘স্ত্রী ৩৯ সপ্তাহের গর্ভবতী ছিলেন। বুধবার বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ স্ত্রীকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। চিকিৎসক ভবতোষ ভৌমিক চিকিৎসা শুরু করেন। বিকেল পাঁচটা নাগাদ আমাকে জানানো হয়, স্ত্রীর পেটে কোনও সন্তান নেই! এটা কখনও সম্ভব?’ একই সঙ্গে আরিফের অভিযোগ, স্ত্রী’র কাছে তিনি জানতে পারেন অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গিয়ে প্রসব করিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে দুর্ব্যবহার করা হয়।’ এরপর স্ত্রীকে নিয়ে আরিফ একটি বেসরকারি প্যাথলজিতে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা করালে রিপোর্টে সন্তানের প্রসব হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে বলে তাঁর দাবি। সেই রিপোর্ট নিয়ে পুনরায় হাসপাতালে গেলে কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি বলেও অভিযোগ। এর পরই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ‘বাচ্চা চুরি’র অভিযোগ তোলা হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক ভবতোষ ভৌমিক বলেন, ‘এটি একটি ফলস প্রেগনেন্সি বা মিথ্যা গর্ভধারণের কেস। সন্দেহ হওয়াতেই আল্ট্রাসোনোগ্রাফির জন্য লিখে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, রোগীর পরিবার এখনও সেই পরীক্ষা করায়নি। পরিবার নবদ্বীপে আল্ট্রোসোনোগ্রাফি করাতে চেয়ে হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়েছিল। রিপোর্ট দেখানোর জন্য ফোন নম্বর দেওয়া হলেও রাতে তা দেখানো হয়নি।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহমত পোষণ করে বিশেষজ্ঞরাও জানিয়েছেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানে ফ্যান্টম প্রেগনেন্সি বা সিউডোসাইসিস নামে একটি পরিচিত সমস্যা রয়েছে। এটি এমন একটি বিরল অবস্থা যেখানে গর্ভবতী না হওয়া সত্ত্বেও গর্ভাবস্থার সমস্ত লক্ষণ অনুভব করেন একজন মহিলা। যেমন, পেট ফোলা, মর্নিং সিকনেস, ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া, এমনকি ভ্রূণের নাড়াচাড়াও অনুভূত হয়। কিন্তু বাস্তবে কোনও ভ্রূণ থাকে না। এটি মূলত মানসিক চাপ থেকে হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে ঘটে। ওই রোগীর ক্ষেত্রেও এমন সমস্যার আশঙ্কা থেকেই আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি।

যদিও মাম্পি বলেন, ‘সদর হাসপাতালেই এতদিন ডাক্তার দেখিয়ে আসছি। সকলেই বলেছেন আমার পেটে বাচ্চা রয়েছে। বুধবার আমাকে ওটিতে নিয়ে গিয়েছিলেন চিকিৎসক। কিছু পরে বললেন, আমার পেটে বাচ্চা নেই। ওঁরা আমার বাচ্চাকে ফিরিয়ে দিক।’ আশা কর্মী রোজিনা বিবি বলেন, ‘ন’মাস ধরে মাম্পিকে পরিষেবা দিয়েছি। সমস্ত রিপোর্ট এই জেলা হাসপাতাল থেকেই করানো হয়েছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ