Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজস্থান থেকে উদ্ধার নাবালিকার পরিবারকে মামলা তুলে নিতে চাপ

রাজস্থান থেকে উদ্ধার নাবালিকার পরিবারকে মামলা তুলে নিতে চাপ
  • ৩০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: গলসির এক নাবালিকাকে রাজস্থানে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ হয়েছিল। পুলিস নাবালিকাকে রাজস্থান থেকেই উদ্ধার করে। এই ঘটনায় তিনজন নারী পাচারকারী গ্রেপ্তার হয়। তাদের দু’জনের বাড়ি রাজস্থানে। তারা এখন সংশোধনাগারে বন্দি। তাদের শাগরেদরা কেস তুলে নেওয়ার জন্য রাজস্থান থেকে গলসিতে এসে নাবালিকার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে। এমনই দাবি ওই নাবালিকার। তার মা বলেন, তিন দিন আগে দু’জন অপরিচিত লোক বাড়িতে আসে। তারা রাজস্থান থেকে আসছে বলে জানায়। হিন্দিতে কথা বলছিল। রমেশকে নির্দোষ দাবি করে তার বিরুদ্ধে করা কেস তুলে নিতে বলে হুমকি দেয়। ওদের কথায় ভয় পেয়ে পাড়ার লোকজনদের ডাকি। গলসি থানাতেও খবর দেওয়া হয়। পুলিস এসে ওদের নিয়ে গেলেও পরে ছেড়ে দেয়। এখন ওরা গলসিরই খানোর কাছে রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। ভয়ে আছি। ওরা হয়তো আবার মেয়ের ক্ষতি করতে পারে। মেয়ে খুবই আতঙ্কে রয়েছে। নারী পাচারকারীরা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তা ও জানে। ওকে প্রায় এক বছর রাজস্থানে আটকে রেখেছিল।

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজস্থানে নারী পাচারকারীদের সিন্ডিকেট এ রাজ্যেও সক্রিয় রয়েছে। ওই নাবালিকার সঙ্গে বর্ধমান স্টেশনে মেমারির এক যুবকের পরিচয় হয়েছিল। সে পাচারকারী গ্যাংয়ের সদস্য। ওই যুবক কাজ দেওয়ার নাম করে তাকে রাজস্থানের আরেক পাচারকারীর সঙ্গে পরিচয় করায়। সে তাকে কয়েক দিন আসানাসোলে রেখে রাজস্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ওই নাবালিকাকে দেড় লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেয়। পুলিস ঘটনার তদন্তে নেমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এখনও একজন ফেরার রয়েছে। এত কিছুর পরও পাচারকারীদের সাগরেদরা ওই নাবালিকার পরিবারকে কেস তোলার জন্য চাপ দেওয়ায় এলাকার অনেকেই ক্ষুব্ধ। 
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, পাচকারীদের নেটওয়ার্ক কিভাবে ছড়িয়ে রয়েছে তা এই ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে। তারা রাজস্থান থেকে কিভাবে ওই নাবালিকার বাড়িতে পৌঁছে গেল, তা ভেবেই স্থানীয় বাসিন্দারা তাজ্জব। পাচারকারীদের সাগরেদরা গ্রামে এসে কয়েকজনকে মোবাইলে ওই নাবালিকার ছবি দেখায়। ছবি দেখিয়ে নাবালিকার বাড়ি কোথায় জানতে চেয়েছিল। তারা নাবালিকার আত্মীয় পরিচয় দেওয়ায় একজন বাড়ি দেখিয়ে দেয়। সেই সময় ওই নাবালিকা বাড়িতে একা ছিল। পরে তার মা আসেন। তিনিই বিষয়টি গ্রামের লোকজনকে জানান।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ