Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিমার টাকাতেও ভাগ! মিনাখাঁয় তৃণমূল নেতার হুমকিতে ঘরছাড়া মৃতের পরিবার

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় মিনাখাঁ থানার জয়গ্রামের বাসিন্দা রবি ভুঁইয়ার।

বিমার টাকাতেও ভাগ! মিনাখাঁয় তৃণমূল নেতার হুমকিতে ঘরছাড়া মৃতের পরিবার
  • ২৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় মিনাখাঁ থানার জয়গ্রামের বাসিন্দা রবি ভুঁইয়ার। সম্প্রতি বিমা সংস্থা থেকে তাঁর পরিবার প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা পেয়েছে। সেই টাকার ভাগ চাই স্থানীয় তৃণমূল নেতার! তবে শুধু টাকা চেয়েই ক্ষান্ত হননি ওই নেতা। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ মৃতের ছেলের। খুনের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে আতঙ্কে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। গোটা বিষয় নিয়ে মিনাখাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ মণ্ডল। 

Advertisement

পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবাবুর মৃত্যুর পর বিমার টাকা পেতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল পরিবার। সম্প্রতি আদালতের নির্দেশেই বিমা সংস্থা থেকে ১৬ লক্ষ টাকা পেয়েছে তারা। তার মধ্যে বেশ কয়েক লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক হিসেবে নিয়েছেন আইনজীবী। এক লপ্তে এত টাকা পাওয়ার খবর এলাকায় চাউর হতেই শুরু হয় উপদ্রব! তৃণমূলের স্থানীয় বুথ সভাপতি বিশ্বজিৎ মণ্ডল পরিবারের থেকে ২ লক্ষ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ। এত টাকা দিতে অস্বীকার করলে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন শাসক দলের ওই নেতা। দিন কয়েক আগে সদলবলে এসে রবিবাবুর স্ত্রী ও ছেলে রজত ভুঁইয়াকে মারধর করেন। টাকা না দিলে বাড়ি ছাড়া করা, এমনকী প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় মাকে নিয়ে বাড়ি ছাড়েন রজতবাবু। 
তিনি বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর পর বিমা কোম্পানি থেকে আমি ১০ লক্ষ টাকা হাতে পেয়েছি। সেই টাকা থেকে তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ মণ্ডল ২ লক্ষ টাকা চেয়েছিলেন। আমরা ৫০ হাজার টাকা দেব বলেছিলাম। তাতে ওঁরা রাজি হননি। আমাদের মারধর করেছে। আমি ও মা খুবই ভয়ের মধ্যে আছি। বাধ্য হয়ে আমরা ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছি।’ তাঁর আরও দাবি, ‘যে লরির ধাক্কায় বাবার প্রাণ চলে যায়, সেই লরির মালিকের থেকে এই নেতা ৬০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে শুনেছি। তার এক টাকাও পাইনি আমরা। এখন আমরা চাইছি, পুলিস নিরপেক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিক এবং আমাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করুক।’ তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ওই তৃণমূল নেতা। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, ‘আমার কাছেই ওরা এক সময় টাকা ধার নিয়েছিল। যেহেতু ওরা এখন টাকা পেয়েছে, তাই পরিশোধ করে দেওয়ার কথা বলেছিলাম। পুলিস তো তদন্ত করছে। আমিও চাই, সত্য সামনে আসুক।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ