Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ময়নাতদন্ত না করিয়ে জোর করে দেহ বাড়িতে নিয়ে গেল পরিবার, উদ্ধার করে ফের হাসপাতালে আনল পুলিস

ময়নাতদন্ত না করিয়ে জোর করে দেহ বাড়িতে নিয়ে গেল পরিবার, উদ্ধার করে ফের হাসপাতালে আনল পুলিস
  • ২৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কালিয়াচক: বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছিল মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের। কিন্তু, ময়নাতদন্ত এড়াতে ডাক্তারদের বারণ সত্ত্বেও এক প্রকার জোর করে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হল মৃতদেহ। ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই বৈষ্ণবনগর থানার পুলিস গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে আনে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে নটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে বৈষ্ণবনগরের ভগবানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জরলাহি নাদাবপাড়া গ্রামে।

Advertisement

পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম মোশারফ হোসেন (২৪)। স্থানীয় সূত্রে খবর, জন্মের পর থেকেই মোশারফ মানসিক ভারসাম্যহীন। জরলাহী বাজারে ছিল তাঁর বিশেষ পরিচিতি। সবাই মোটামুটি মোশারফকে চিনতেন। এদিন সন্ধ্যাতেও তিনি বাজারে আসেন। কিন্তু রাত আনুমানিক সাড়ে ন’টা নাগাদ ইলেকট্রিকের পোলের সংস্পর্শে এলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। তাঁকে পড়ে যেতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বেদরাবাদ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে তাঁর বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও হাজির হন। কিন্তু কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার তাঁদের জানিয়ে দেন মোশারফের মৃত্যু হয়েছে। এরপরই পরিবার মোশারফের ময়নাতদন্ত না করিয়ে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের বারণ করেন কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার এবং হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা। কিন্তু জোর করেই হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ টোটোয় চাপিয়ে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। কালিয়াচক-৩ এর বিএমওএইচ শেখ আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার পরিবারের লোকদের দেহ নিয়ে যেতে বারণ করেছিলেন। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা শোনেননি। একপ্রকার জোর করে দেহটি নিয়ে গিয়েছেন। ঘটনার কথা আমরা পুলিসকে জানিয়েছিলাম। পুলিস দেহটি উদ্ধার করে আবার হাসপাতালে নিয়ে আসে। 
যদিও মোশারফের বাবা জিয়াউল মিয়াঁর বক্তব্য, আমরা বেশিকিছু বুঝি না। আমার সঙ্গে আর‌ও অনেকে ছিল। তাঁদের পরামর্শমতো হাসপাতাল থেকে দেহটা নিয়ে এসেছিলাম। সেইসময় অনেকেই বারণ করেছিলেন। পুলিস রাতে এসে দেহ নিয়ে গিয়েছে।
পুলিস জানিয়েছে, দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত চলছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ