Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নারকেলডাঙায় বধূর রহস্যমৃত্যু নির্যাতনের অভিযোগ পরিবারের

দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে গণ্ডগোল চলছিল। নিয়মিত অশান্তিতে জেরবার ৫ বছরের বৈবাহিক সম্পর্ক।

নারকেলডাঙায় বধূর রহস্যমৃত্যু নির্যাতনের অভিযোগ পরিবারের
  • ৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে গণ্ডগোল চলছিল। নিয়মিত অশান্তিতে জেরবার ৫ বছরের বৈবাহিক সম্পর্ক। তাতে প্রলেপ দিতেই স্ত্রীকে নিয়ে মেঘালয়ে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন স্বামী। ৮ দিনের ট্রিপ। কিন্তু, আর্থিক কারণে ঘোরার পরিকল্পনা বাতিল করেন গৃহকর্তা। তার জেরে দু’জনের মধ্যে অশান্তি চরমে ওঠে। এরপরেই বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘর থেকে উদ্ধার হল গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ। মৃতের নাম শ্বেতা প্রসাদ সাউ (২৯)। প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান, আত্মঘাতী হয়েছেন বধূ। কিন্তু, জল্পনা উস্কে দিয়েছে মৃতার পরিবার। তাঁর বাবার মৌখিক অভিযোগ, পুত্র সন্তান না হওয়ায় স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন খুন করেছে শ্বেতাকে। যদিও থানায় কোনও অভিযোগ জানাননি তিনি। 

Advertisement

এদিন নারকেলডাঙা থানা এলাকার বেলেঘাটা রোডের একটি বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। দুপুর দুটো নাগাদ গৃহবধূকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। সেই সময়ে শ্বেতার স্বামী রোহিত কুমার সাউ বাড়িতে ছিলেন না। সিলিং ফ্যান থেকে গৃহবধূকে নামিয়ে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। সেখানেই শ্বেতাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিস। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে নারকেলডাঙা থানা। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। সেখানেই হাজির হন মৃতার স্বামী। একইসঙ্গে সেখানে আসেন শ্বেতার বাপের বাড়ির সদস্যরা। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন বাবা। তাঁর দাবি, আত্মহত্যা নয়। খুন করা হয়েছে মেয়েকে। কিন্তু, পুলিসকে কেন তিনি লিখিত অভিযোগ করলেন না? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
পুলিসের দাবি, ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল বিয়ে হয় শ্বেতা ও রোহিতের। পাঁচবছরের মধ্যে দু’টি কন্যা সন্তানের জন্ম হয় তাঁদের। তবে শেষ দুই বছর ধরে দু’জনের মধ্যে মাঝেমধ্যেই সাংসারিক বিবাদ হতো। মৃতার শ্বশুরবাড়ির সদ্যসরাও এই বিষয়টি জানিয়েছেন পুলিসকে। শ্বেতার বাবার দাবি, পরপর দু’টি কন্যাসন্তান নিয়ে আপত্তি ছিল রোহিতের পরিবারের। পুত্র সন্তানের জন্য মেয়েকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। বাবাকে ফোন করে তা জানিয়েও ছিলেন শ্বেতা। সেই অডিও ক্লিপও শুনিয়েছেন তিনি। কেন যুগলের মধ্যেই বিবাদ? তা জানতে রোহিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস। মৃতার স্বামী জানিয়েছেন, বৈবাহিক সম্পর্কে চিড় ধরেছিল। তা মেটাতেই ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করেছিলেন তিনি। এদিন সকাল ৭টায় বেরিয়েছিলেন তিনি। ১১টায় ফিরে এসে তিনি জানান, পরিকল্পনা বাতিল করতে হবে। ৪ ঘণ্টার মধ্যে কী এমন আর্থিক অনটনে পড়লেন রোহিত যার জন্য ঘোরার পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হলেন তিনি? তা নিয়ে রহস্য রয়েছে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ