সংবাদদাতা, সিউড়ি: গরম পড়তেই বেড়েছে জলের বোতল বিক্রি বেড়েছে। জারে জল ভরে দেদার বিক্রি হচ্ছে। যত্রতত্র পুরসভা বা পঞ্চায়েতের কল থেকে ২০লিটারের জারে জল ভরে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটি জলের জারের দাম নেওয়া হচ্ছে ৪০-৫০টাকা। এই জলের বিশুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তো রয়েছেই! কিন্তু, গরমের সময় সাধারণ মানুষের জলকষ্টের সুযোগ নিয়ে শহরের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই ধরনের কাজ করছে। এই জল কতটা নিরাপদ তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কাও রয়েছে। তারপরও পুলিস প্রশাসন ও পুরসভার নাকের ডগায় রমরমিয়ে বিক্রি হচ্ছে এসব জল। অথচ কারও কোনও হেলদোল নেই। জল পৌঁছে যাচ্ছে বিভিন্ন গৃহস্থের বাড়িতেও। আর সেই জল পান করছে কচিকাঁচা সহ সকলেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রীষ্মে সিউড়ি শহরজুড়ে পানীয় জলের সমস্যা চরম আকার ধারণ করে। তাই অনেকেই জল কিনে থাকেন। গজিয়ে উঠেছে একাধিক নামী ও বেনামী ‘মিনারেল ওয়াটার’ সংস্থা। এমনকী এই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। জারে যেখান সেখান থেকে জল ভরে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। তাদের কাছে বৈধ লাইসেন্স বা চালান কিছুই নেই। জলের জারের গায়ে লেবেলও থাকে না বলে অভিযোগ। ২০ লিটারের জার জোগাড় করে সিউড়ি পুর ও পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন কল থেকে জল ভরে বিক্রি করা হচ্ছে।
সিউড়ির বেনেপুকুর পাড়ার বেশকিছু জায়গায় রাস্তার ধারে থাকা পুরসভার কলগুলিতে ট্যাপ নেই। ফলে রাস্তায় পড়ে জল নষ্ট হয় বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। সেখান থেকেও জল ভরা হচ্ছে। কড়িধ্যা এলাকার পাইপ লাইনের কাছেও পঞ্চায়েতের কল থেকে জল ভরে বাড়ি বাড়ি বিক্রি করছে এই অসাধু জল ব্যবসায়ীরা। শহরের বেশকিছু চায়ের দোকান, রেস্তরাঁ, হোটেল ইত্যাদি জায়গায় এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই জল ব্যবহার হচ্ছে। সিউড়ি বাসস্ট্যান্ডের একটি হোটেলে আসা ক্রেতা বাসুদেব দত্ত বলেন, প্রশাসনিক ভবনে কাজে এলে এখানেই আমরা খাওয়া-দাওয়া করি। হোটেলে জারের জলই দেওয়া হচ্ছে। জলের জারটি অপরিষ্কার। স্বাদও খুব একটা ভালো নয়। আমরা বাধ্য হয়ে খাই। বিষয়টি প্রশাসনের দেখা দরকার। আর এক বাসিন্দা বলেন, জল পরিস্রুত করার মেশিন অনেক দামী। সেকারণে যেখান সেখান থেকে ভরে বিক্রি করা হচ্ছে।