নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ‘ভূতুড়ে ভোটার’ ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা চলছে। এই আবহে বীরভূম জেলায় এক ভূতুড়ে ভোটারের হদিশ মিলতেই জেলার রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযোগ, নির্দিষ্ট এপিক নম্বরের ভোটারকে সাম্প্রতিককালে জেলার সদর শহর সিউড়িতে দেখা যায়নি। যদিও ভোটার তালিকায় নাম জ্বলজ্বল করছে। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশে একই নাম ও এপিক নম্বরের হদিশ মিলেছে। এছাড়াও প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে সিউড়ির একাধিক বাসিন্দার এপিক নম্বরের হদিশ মিলেছে। শাসক নেতৃত্বের কথায়, আশঙ্কাই ক্রমশ সত্যি হচ্ছে। জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক বিকাশ রায়চৌধুরীর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সঠিক কথাই বলেছিলেন। আমরা হাতে হাতে প্রমাণ পাচ্ছি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার লিস্ট মিলিয়ে দেখার কাজ চলছে। দ্রুত সেই কাজ চলছে। আরও কত এমন ঘটনা রয়েছে তা খোঁজ করা হচ্ছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করা হবে।
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেত্রী ভূতুড়ে ভোটার খুঁজে বার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপরই বীরভূম জেলা নেতৃত্ব বৈঠক করে সেই কাজ শুরু করে। জেলাজুড়ে শাসক নেতারা আমজনতার বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা মিলিয়ে তথ্য যাচাই করছেন। সেই কাজ চলাকালীনই সিউড়ি পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেনেপুকুর পাড়ায় ভূতুড়ে ভোটারের হদিশ মিলল। দলীয় সূত্রে খবর, উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে স্থানীয় ভোটার তালিকায় থাকা রণজিৎ দত্তের এপিক নম্বরের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। এক্ষেত্রে ভোটার সহ তাঁর বাবার নামও হুবহু এক। অভিযোগ, সাম্প্রতিক অতীতে ওই এলাকায় রণজিৎ দত্তকে দেখা যায়নি। এমনকী শেষ লোকসভা নির্বাচনে ওই এপিক নম্বরের পক্ষে ব্যালটে কোনও ভোট পড়েনি। ঘটনায় শাসক নেতৃত্বের আশঙ্কা, রণজিৎ দত্তের নামে ইস্যু হওয়া এপিক নম্বর ভুয়ো। যদিও অনেকেই দাবি করছেন, একসময় হয়তো ওই ব্যক্তি বেনেপুকুর পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। কিন্তু সে বিষয়ে কোনও তথ্য প্রমাণ অবশ্য মেলেনি।
অন্যদিকে একই ওয়ার্ডের চুরিপাড়ার বাসিন্দা শাকিল খানের এপিক নম্বরের হদিস মিলেছে প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে। এক্ষেত্রে অবশ্য ভোটারের নাম আলাদা। তৃণমূল নেতৃত্ব সূত্রে জানা গিয়েছে, একই এপিক নম্বরে ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া জেলার সুফল মুর্মুর নাম রয়েছে। এছাড়াও প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে সিউড়ির লম্বদরপুরের আরও দুই বাসিন্দার এপিক নম্বরের মিল পাওয়া গিয়েছে। সেইসঙ্গে নামের মিলও রয়েছে। তবে বয়সের পার্থক্য রয়েছে। চুরিপাড়ার বাসিন্দা শাকিল বলেন, আমি চাই এই ভুল দ্রুত এই ভুল সংশোধন করা হোক। মনে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের ভুলে এই ঘটনা ঘটেছে। ভূতুড়ে ভোটার ইস্যুতে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শিপ্রা মজুমদার বলেন, রণজিৎ দত্ত নামে একজনের এপিক নম্বরের হদিস পাওয়া গিয়েছে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে। ওই এপিক নম্বরের স্বপক্ষে শেষ লোকসভা নির্বাচনে এখানে ভোট পড়েনি। মনে হচ্ছে এটি পুরোপুরি ভুয়ো।
ভুয়ো ভোটার খুঁজতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তালিকা হাতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। অফলাইন ও অনলাইনে সমস্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্ক্রুটিনি পর্বে যেসব গরমিল নজরে আসছে সবটাই উচ্চ পর্যায়ে জানানো হবে। সামগ্রিক ঘটনায় বিজেপি অবশ্য পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে। জেলা বিজেপির সহ সভাপতি দীপক দাস বলেন, ভূতুড়ে ভোটার খোঁজার প্রক্রিয়া সমুদ্রে ছিপ দিয়ে মাছ ধরার মতো। এপিক নম্বর নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে না। রাজ্যের তত্ত্বাবধানে সেই কাজ হয়। আর কেউ একবার ভোট দেয়নি মানেই ভূতুড়ে ভোটার নয়। এসব খুঁজেও বা কী হবে। তাঁরা কি নাম বাদ দিতে পারবেন?