Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরসভার কর্মী সহ ২৬ জনের ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেট বাতিল

পুরসভার কর্মী সহ ২৬ জনের ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেট বাতিল
  • ৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: অভিযোগ জানানোর পাঁচ বছর পর ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেট বাতিল করল হলদিয়া মহকুমা প্রশাসন। গত ১ জুলাই হলদিয়া পুরসভার কর্মী স্বপন প্রহরী সহ মোট ২৬ জনের ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেট বাতিল করেছেন মহকুমা শাসক সুপ্রভাত চট্টোপাধ্যায়। প্রত্যেকের বাড়ি হলদিয়ার পীতাম্বরচক এলাকায়। সকলের পদবি ‘প্রহরী’। তাঁরা নিজেদের সাঁওতাল পরিচয়ে তফসিলি উপজাতি সার্টিফিকেট বানিয়েছিলেন। কিন্তু, প্রহরী কখনও সাঁওতাল নয় বলে তমলুকের ‘রাসকা মহল’ সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হয়। এনিয়ে হলদিয়ার মহকুমা শাসক ছাড়াও রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তরেও অভিযোগ পাঠানো হয়। চার দফায় শুনানি শেষে গত ১ জুলাই একসঙ্গে ২৬ জনের কাস্ট সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে। হলদিয়ার মহকুমা শাসক বলেন, মোট ২৬ জনের জাতিগত শংসাপত্র বাতিল করা হয়েছে।

Advertisement

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে হলদিয়া পুরসভার গ্রুপ-ডি কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল। তফসিলি উপজাতি সংরক্ষিত পদে স্বপন প্রহরী নিযুক্ত হন। এরপর বঞ্চিত চাকরি প্রার্থী রবীন হাঁসদা আরটিআই করে স্বপন প্রহরী তফসিলি উপজাতি শংসাপত্র প্রাপক কি না সেটা যাচাই করেন। দপ্তর থেকে জানানো হয়, স্বপন প্রহরীর কাছে এসটি সার্টিফিকেট আছে। তাঁর সাব কাস্ট ‘সাঁওতাল’। এরপরই শুরু হয় লড়াই। ‘প্রহরী’ পদবি কীভাবে সাঁওতাল হয়, তা নিয়ে অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তর থেকে হলদিয়া মহকুমা শাসকের অফিসে অভিযোগ জমা পড়ে। তার ভিত্তিতে দফায় দফায় শুনানি হয়। স্বপন প্রহরীর মতো পীতাম্বরচকের আরও ২৫ জনের নাম পাওয়া যায়। তাঁদের প্রত্যেকের এসটি সার্টিফিকেট রয়েছে। মেয়েরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে প্রতি মাসে ১২০০ টাকা করে পান। গত ১ জুলাই পুরকর্মী স্বপনবাবু এবং তাঁর মতো আরও ২৫ জনের এসটি সার্টিফিকেট বাতিল হয়েছে। 
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বিগত কয়েক বছরে প্রচুর ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেট বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত ৬মে তমলুকের মহকুমা শাসক ন’জনের এসসি এবং ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করেছেন। সন্তানদের ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পথ সহজ করতে অনেক অভিভাবক অসাধু চক্রের খপ্পড়ে পড়ে ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেট বানাচ্ছে। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ওইসব ভুয়ো কার্স্ট সার্টিফিকেট তৈরি হয়েছিল। তারআগে ২০২৩ সালে ২০ জুলাই তমলুক মহকুমা প্রশাসন একসঙ্গে ১০৮টি জাতিগত ভুয়ো শংসাপত্র বাতিল করেছিল। তালিকায় দু’টি এসটি সার্টিফিকেট, ২২টি এসসি সার্টিফিকেট এবং ৮৪টি ওবিসি সার্টিফিকেট ছিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডাক্তারি ও ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা পরীক্ষায় যোগ্যতা অর্জনের জন্য এই কৌশল নেওয়া হয়েছিল।
তমলুক রাসকা মহলের সভাপতি দেবেন্দ্রনাথ হেমব্রম বলেন, আমরা স্বপন প্রহরী সহ বাকিদের জাতিগত শংসাপত্রকে চ্যালেঞ্জ করে প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। ২০২০ সালে সেই অভিযোগের পর একাধিক বার শুনানি হয়েছে। শেষমেশ তাঁদের প্রত্যেকের জাতিগত শংসাপত্র বাতিল করা হয়েছে।
স্বপনবাবু বলেন, আমাদের আদি বাসস্থান শালবনীতে। পূর্বপুরুষরা হলদিয়ায় চলে আসেন। সাঁওতাল হিসেবে আমাদের কাছে এসটি সার্টিফিকেট ছিল। এখন সেই সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ