নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুলিশের ইউনিফর্ম পরে দূরপাল্লার ট্রেনে উঠে বিভিন্ন কামরায় চালানো হত তল্লাশি। কোনো যাত্রীর ব্যাগ থেকে ‘আপত্তিকর’ কিছু পাওয়া গেলে তাঁকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হত। কখনও আবার চুরির সামগ্রী ব্যাগে রয়েছে বলে দাবি করে যাত্রীর জিনিসপত্র ছিনতাই করে চম্পট দিত সে। রাতের ট্রেনে যাত্রীদের ঘুমের সুযোগ নিয়ে ব্যাগ চুরি করত। শিয়ালদহ, কাটোয়া, ব্যান্ডেল সহ একাধিক জিআরপিতে তার বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত বালিয়া এক্সপ্রেসে পুলিশ সেজে তল্লাশির নামে এক চিকিৎসকের ব্যাগ চুরি করে গ্রেপ্তার হল সেই গুণধর! অভিযুক্তের নাম সঞ্জয় ব্যাপারি। তাকে নৈহাটি স্টেশন থেকে ধরা হয় শনিবার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি বালিয়া এক্সপ্রেসে শিয়ালদহ আসছিলেন এক চিকিৎসক। তিনি কলকাতায় প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন। বাঙ্কের উপরে তিনি ব্যাগ রেখেছিলেন। সেই ব্যাগে ল্যাপটপ, ডাক্তারির বিভিন্ন সার্টিফিকেট সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী ছিল। শিয়ালদহ স্টেশনে নামার আগে বাঙ্ক থেকে ব্যাগ নামাতে গিয়ে দেখেন, সেটি উধাও। শিয়ালদহ জিআরপিতে অভিযোগে তিনি জানান, ব্যান্ডেল থেকে নৈহাটির মধ্যে ব্যাগটি চুরি হয়েছে। তিনি ব্যান্ডেল থেকে বালিয়া এক্সপ্রেসে উঠেছিলেন। ‘জিরো এফআইআর’ রুজু করে শিয়ালদহ জিআরপি কেসটি পাঠিয়ে দেয় নৈহাটি জিআরপিতে।
নৈহাটি জিআরপি প্রথমে ওই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে। তারপর নৈহাটি স্টেশনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তারা। তাতে দেখা যায়, পুলিশের ইউনিফর্ম পরিহিত এক ব্যক্তি স্টেশনে নেমে যাচ্ছে। তার সঙ্গে রয়েছে একটি ব্যাগ। চিকিসৎককে ওই ব্যাগের ছবি দেখাতেই তিনি জানান, সেটি তাঁরই। রেল পুলিশের অফিসাররাও ছবি দেখে অভিযুক্তকে চিনে ফেলেন। নাম জানা যায় সঞ্জয় ব্যাপারি। তার বিরুদ্ধে শিয়ালদহ, কাটোয়া,ব্যান্ডেল সহ একাধিক জিআরপিতে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ছিনতাই, তোলাবাজি, লুটপাট, চুরি সহ ডজন খানেক মামলা ঝুলে রয়েছে। মূলত শিয়ালদহ থেকে দূরপাল্লার ট্রেনের সংরক্ষিত কামরায় ওঠে অভিযুক্ত। পরনে থাকে সাদা শার্ট ও খাকি প্যান্ট। পুলিশ পরিচয় দিয়ে যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি শুরু করে চলন্ত ট্রেনে। গ্রেপ্তার বা আটকের ভয় দেখিয়ে জিনিস ছিনতাই বা তোলাবাজি চালায়। রাতের ট্রেনে কৌশল বদলে সংরক্ষিত কামরায় তল্লাশির নামে দামি দামি জিনিসপত্র চুরি করে। রেল পুলিশের অফিসাররা তার খোঁজখবর রাখছিলেন। শনিবার রাতে অভিযুক্ত নৈহাটি স্টেশনে আসতেই তক্কে তক্কে থাকা জিআরপির অফিসাররা তাকে পাকড়াও করে। ধৃত জেরায় স্বীকার করেছে, পুলিশের ইউনিফর্ম পরে সে একাধিক অপরাধ করেছে। এর আগেও গ্রেপ্তার হয়েছে সে। জামিনে ছাড়া পেয়েই আবার দূরপাল্লার ট্রেনে একই কাণ্ড করে চলছিল। ছিনতাই ও চুরির সামগ্রী সে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করত।