Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৮০ শতাংশ ছাড় দিয়ে ভুয়ো কীটনাশক বিক্রি

৮০ শতাংশ ছাড় দিয়ে ভুয়ো কীটনাশক বিক্রি
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ১২:০৩
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: ৮০ শতাংশ ছাড়ে সার বিক্রেতাদের দেওয়া হতো জাল কীটনাশক। এমনকী ধৃতদের আদালতে জমা করা বিলের জিএসটি নম্বরও ভুয়ো বলে পুলিস সূত্রের খবর। এই জাল সার প্রায় একবছর ধরে জাল বিছিয়েছে কার্যত গোটা জেলায়। ফলে চরম আতঙ্কিত চাষিরা। আবার জাল রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও রোগনাশক ব্যবহারে শুধু চাষের নয়, ক্ষতি হতে পারে মানব দেহেরও। মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামের জাল সার কাণ্ডের পর জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

Advertisement

প্রসঙ্গত, বুধবার সকালে খড়গ্রাম থানার পারুলিয়া পঞ্চায়েতের মাঝিপাড়া এলাকায় পুলিস একটি গাড়িতে থাকা প্রচুর পরিমাণ জাল রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও রোগনাশক বাজেয়াপ্ত করে। গ্রেপ্তার করা হয় তিন যুবককে। প্রায় একবছর ধরে ধৃতরা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে কৃষি দপ্তরের নজর এড়িয়ে জাল সার বিক্রি করছিল। বুধবার ধৃতদের কান্দি মহকুমা আদালতে তোলা হলে দু’দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর পুলিসি জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে আরও ভয়ানক তথ্য। পুলিসের বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের আদালতে সাবমিট করা একটি বিলের জিএসটি নম্বর-ই ভুয়ো বলে জানা গিয়েছে। তাছাড়াও ধৃতরা যে সকল জাল রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও রোগনাশক বিক্রি করত, তাতে বিক্রেতাদের বিপুল পরিমাণ ছাড় দেওয়া হতো। কীটনাশক ও রোগনাশকের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হতো। কৃষিদপ্তরের নজর এড়িয়ে ধৃতরা প্রায় একবছর ধরে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে জাল সার বিক্রি করত। খোদ বহরমপুরের কয়েকটি দোকানে জাল চাষের সামগ্রী বিক্রি করা হয়েছে। জেলার নওদা, বেলডাঙা, নবগ্রাম, ডোমকল এলাকাতেও জাল সার বিক্রি করা হয়েছে। ঘটনায় কৃষিদপ্তরের কোনও কর্মী জড়িয়ে রয়েছেন কি না, সেটাও তদন্ত করে দেখছে পুলিস।
এদিকে জাল সার কাণ্ডের পর খড়গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চাষিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। জানা গিয়েছে, ধৃতরা কয়েকমাস ধরে এলাকার জয়পুর, শেরপুর, নগরগ্রাম, পারুলিয়া ও বীরভূমের তারাপীঠ সংলগ্ন এলাকায় জাল সার বিক্রি করছে। পারুলিয়া গ্রামের চাষি সুখেন মাঝি বলেন, ওই রাসায়নিক সার আমরা ব্যবহার করেছি। তাতে মনে হয়েছে সারে মোটা বালি মেশানো হয়েছে। কীটনাশকগুলি কোনও কাজ করেনি। ফলে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির প্রহর গোনা ছাড়া আর কিছু করার নেই। কৃষিদপ্তর এনিয়ে সতর্ক না করায় অবাক লাগছে। গ্রামের অপর চাষি নইমুদ্দিন আলি বলেন, এই ঘটনায় কৃষিদপ্তরের কাছে খবর ছিল না, এটা হতে পারে না।
এদিকে জাল সার শুধু ফসলের নয়, ক্ষতি করতে পারে মানব দেহেরও, জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। কান্দি এসএমওএইচ সৌমিক দাস বলেন, জাল সার বা কীটনাশকের কম্পোজিশন ঠিক না থাকায় মানবদেহের ক্ষতি করবে।
যদিও জেলা কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জাল সার কাণ্ডের পর সেগুলির নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তবে একবছর ধরে জাল সার বিক্রি হলেও সেটি তাঁদের নজরে আসেনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ