নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এনআরআই নন। অথচ সার্টিফিকেট বানিয়ে কোটার সুবিধা ভোগ করা। এ নিয়ে তদন্তে নেমে গত ছ’মাসে রাজ্যের বিভিন্ন প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজে হানা দিয়েছে সিবিআই এবং ইডি’র মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। প্রশ্নের মুখে বিভিন্ন দূতবাস ও কনসাল অফিসের কর্মীদের একাংশের ভূমিকা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের এও অনুমান, জাল এনআরআই সার্টিফিকেটের পিছনে বড় মাথা থাকতে পারে। এবার পশ্চিম এশিয়ার একটি দেশে ভারতের কনস্যুলেট জেনারেলের অফিসের কাছে তথ্য জানার অধিকার আইনে এনআরআই সার্টিফিকেট নিয়ে একাধিক উত্তর জানতে চেয়েছিলেন এক তরুণ চিকিৎসক। উত্তর যা মিলল, তাতে এই কোটার স্বচ্ছতা আরও বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়ল।
ইউনাইটেড ডক্টর্স ফ্রন্টের (ইউডিএফ) সর্বভারতীয় সভাপতি ডাঃ লক্ষ্য মিত্তল দুবাইয়ে ভারতের কনস্যুলেট জেনারেল অফিসের কাছ থেকে এনআরআই কোটা নিয়ে একাধিক প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছিলেন। যেমন এই সার্টিফিকেট ইস্যু করবার মাপকাঠি কী কী, গত ক’বছরে কতগুলি এমন সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে, যাচাই করতে গিয়ে কতগুলি সার্টিফিকেট জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে ইত্যাদি।
উত্তরে দুবাইস্থিত ভারতীয় কনস্যুলেট অফিসের সেন্ট্রাল পাবলিক ইনফরমেশন অফিসার বিজেন্দর সিংয়ের উত্তরগুলি অনেক নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। বিজেন্দর জানিয়েছেন, ২০২০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পাঁচ বছর যথাক্রমে ১২৬৩, ১২০৩, ২০৯৩, ২৩৯৪ এবং ২৮৭৮ জন দুবাই নিবাসী অনাবাসী ভারতীয়ের এনআরআই সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে।
আরটিআই-এর উত্তর থেকে জানা যাচ্ছে, শুধু ২০২১ সাল ছাড়া বাদবাকি প্রতি বছরই ইস্যু হওয়া এনআরআই সার্টিফিকেটের সংখ্যা বেড়েই গিয়েছে। ভালোমতো খেয়াল করে এও বোঝা যাচ্ছে, পাঁচ বছরে দুবাইয়ের অনাবাসী ভারতীয়দের মধ্যে থেকে এনআরআই সার্টিফিকেট ইস্যু বেড়ে গিয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি!
এখানেই শেষ নয়, কনস্যুলেট জেনারেলের অফিস থেকে আরটিআইয়ের উত্তরে এও জানানো হয়েছে, বেশকিছু ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, রাজ্য কাউন্সিল থেকে ইস্যু হওয়া এনআরআই সার্টিফিকেটগুলি যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছিল। তাতে ২০২৩ সালে ৯টা এবং ২০২৪ সালে তার দ্বিগুণেরও বেশি—২৪টি সার্টিফিকেট জাল বেরিয়েছে!