নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতালে ভেজাল তথা নিম্নমানের ওষুধ! সেই ওষুধে যে কত রোগীর চিকিৎসা হয়েছে, তার কোনো হিসাব নেই। খোদ কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতালে কী করে এ ধরনের ভেজাল বা নিম্নমানের ওষুধ সরবরাহ হল, তা নিয়ে ওয়াকিবহাল মহলে প্রশ্ন উঠেছে। হৃদরোগ, অবসাদ, খিঁচুনি, প্রসব পররর্তী রক্তক্ষরণ রুখতে যে সোডিয়াম ভ্যালপ্রোয়েট, স্পাইরোনোল্যাকটোন, ইমিপ্রেমিন, মেটোপ্রোলল ও মেথাইল এরগোমেট্রিননের মতো ওষুধ ব্যবহার হয়, তার ১০টি ব্যাচে ভেজাল তথা নিম্নমান ধরা পড়েছে। ওই ব্যাচের ওষুধগুলি পরীক্ষা করে ‘নট অব স্ট্যান্ডার্ড কোয়ালিটি’ বলে চিহ্নিত হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে নয়াদিল্লির ডঃ রামমনোহর লোহিয়া হাসপাতালে। যেখানে স্রেফ আম নাগরিকই নয়, সাংসদদের মতো খাস নাগরিকদেরও নানা রোগের চিকিৎসাও হয়। তাই নিম্নমানের ওষুধের বিষয়টি নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্যদপ্তর। ওই নির্দিষ্ট ব্যাচের ওষুধ ব্যবহার করতে বারণ করা হয়েছে চিকিৎসক এবং নার্সদের। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালের ওরাল অ্যান্ড টপিক্যাল ড্রাগ ইউনিটের পাশাপাশি ইনজেকটেবল ড্রাগ ইউনিটেরও পাঁচটি ব্যাচের নিম্নমানের ইনজেকশন নজরে এসেছে। যার মধ্যে রয়েছে, মেথাইল এরগোমেট্রিন, মাল্টিভিটামিন ইনজেকশন, ফেনিরামিন ম্যালিয়েট এবং অ্যাসকরবিক অ্যাসিড। একইভাবে আইসোসরবাইড মনোনাইট্রেট ২০ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট স্ট্রিপের ভিতরে ওষুধটি গুঁড়ো অবস্থায় পাওয়া গেছে। ওষুধটির উৎপাদনের তারিখ জুলাই ২০২৬। মেয়াদ শেষ জুন ২০২৮। ওই ব্যাচের ওষুধ ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিম্নমানের ওষুধ ব্যবহারই নয়। ঘোষণার সাত বছর পরেও হল না হাসপাতালেরই অটল বিহারী বাজপেয়ি ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস। ২০১৯ সালের ১৬ আগস্ট বাজপেয়ির প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর দিন ৪৭০ কোটি টাকা খরচে এই ইনস্টিটিউট গড়ার কথা ঘোষণা করেছিল মোদি সরকার। যার কাজ আজও শুরু হয়নি। এখন হাসপাতাল সূত্রে জানা যাচ্ছে, যে জায়গায় ওই প্রস্তাবিত ইনস্টিটিউটটি হওয়ার ছিল, তার নীচে দিয়ে গিয়েছে এয়ারপোর্ট মেট্রো লাইন। তাই প্রকল্প আপাতত আটকে। এরই পাশাপাশি হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের লাগোয়া সুপার স্পেশালিটি ব্লক তৈরি হয়েও পড়ে রয়েছে। যেভাবে ওই ব্লকটি গড়া হয়েছে, সেখানে কোনোভাবে আগুন লাগলে দমকল গিয়ে আগুন নেভানোর মতো পরিস্থিতি নেই। তাই দিল্লি সরকারের ফায়ার ডিপার্টমেন্ট অনুমতি দিচ্ছে না।