Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডাবল ইঞ্জিন অসম থেকেও জাল ওষুধ ঢুকেছে বাংলায়!

ডাবল ইঞ্জিন অসম থেকেও জাল ওষুধ ঢুকেছে বাংলায়!
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৫ ১০:০৪
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: জাল ওষুধ নিয়ে তদন্ত ও ধরপাকড় চলছে রাজ্যজুড়ে। তার মধ্যেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেল, ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্য অসম থেকেও বাংলায় ঢুকেছে গুচ্ছ গুচ্ছ জাল ওষুধ। সেসব ওষুধের পাতা হুবহু আসলের মতোই। ড্রাগ কন্ট্রোলের আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় এখন অসমের একটি দালাল চক্র সক্রিয়। এই চক্রের লোকজন চিকিৎসার জন্য রোগী নিয়ে আসে বর্ধমানে। সেই সূত্রে এখানকার বেশ কয়েকটি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের ‘সুসম্পর্ক’ রয়েছে। এমনকী, কেউ কেউ রীতিমতো নার্সিংহোমের বেড ‘ভাড়া’ নিয়ে রেখেছেন। রোগী এনে সেই বেডেই ভর্তি করানো হয়। এই দালালরা জাল ওষুধের ‘ক্যারিয়ার’ হিসেবে কাজ করছে বলে অভিযোগ। তারাই নিম্নমানের ওষুধ সরবরাহ করছে বাংলার বিভিন্ন জায়গায়।

Advertisement

ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, ‘ওষুধের পাতায় থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করলে আসল ও নকলের পার্থক্য বোঝা যায়। কিন্তু সবার পক্ষে তা দেখা সম্ভব নয়। সেই সুযোগটাই নিচ্ছে জাল ওষুধের কারবারিরা। তাই প্রতিটি দোকানে সরকার ঘোষিত নিম্নমানের ওষুধের তালিকা এবং বিক্রেতার লাইসেন্স সামনে ঝুলিয়ে রাখার কথা বলা হয়েছে। অনেকেই তা করছেন না। কয়েক দিন আগে দুর্গাপুর শহরের কয়েকটি ওষুধের দোকানের মালিককে এর জন্য সতর্কও করা হয়েছে। বর্ধমানের ওষুধ দোকানগুলির উপরে নজর রাখা হচ্ছে। নিয়ম না মানলে জরিমানা করা হবে।’ 
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, বর্ধমান শহরে ওষুধের বড় বাজার রয়েছে। বীরভূম, মুর্শিদাবাদ সহ দক্ষিণবঙ্গের আরও কয়েকটি জেলার ব্যবসায়ীরা এখান থেকে ওষুধ কিনে নিয়ে যান। এরকম একটি বাজারের দিকে স্বভাবতই নজর ছিল জাল ওষুধের কারবারিদের। বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হওয়ায় এবং প্রশাসন তদন্তে নামায় এখন তারা অনেকটাই সতর্ক হয়ে গিয়েছে বলে খবর। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় বলেন, ‘চিকিৎসকের পরামর্শমতো কোনও ওষুধ দিনের পর দিন খাওয়ার পরও  কাজ না হলে যে কেউ ড্রাগ কন্ট্রোলে অভিযোগ জানাতে পারেন। আধিকারিকরা তৎক্ষণাৎ তদন্ত করে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। অসমের মতো বিভিন্ন রাজ্য থেকেই নিম্নমানের বা জাল ওষুধ ঢুকেছে বলে জানা যাচ্ছে। ওই সব রাজ্যে জাল ওষুধের কারখানা গড়ে উঠলেও সেখানকার সরকার কেন পদক্ষেপ করেনি, সেই প্রশ্ন উঠবেই।’ 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমানে ওষুধ পাচার চক্রও বহুদিন ধরে সক্রিয়। বছর দেড়েক আগে শহরের একটি আবাসন থেকে পুলিস প্রচুর পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করেছিল। ওই ওষুধ অবৈধ উপায়ে সরকারি গোডাউন থেকে বাইরে এনে খোলা বাজারে বিক্রির রমরমা কারবার চলত। সেই ঘটনায় পুলিস একজনকে গ্রেপ্তারও করে। চক্রের বাকিরা অধরা ছিল। ওই চক্রটি জাল ওষুধের কারবারেও জড়িত কি না, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ড্রাগ কন্ট্রোল সূত্রে খবর, বর্ধমান জেলা থেকে এখনও নকল ওষুধ উদ্ধার হয়নি। তবে এ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আধিকারিকদের হাতে এসেছে। এখন তথ্যগুলি যাচাইয়ের কাজ চলছে। সেই সঙ্গে আতস কাচের তলায় রয়েছে অসমের দালাল চক্রের কাজকর্মও। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ