নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতায় ছাপানো হচ্ছে জাল লটারির টিকিট। সেখান থেকে সরাসরি মুর্শিদাবাদ জেলায় এনে তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বহরমপুর ও জঙ্গিপুর মহকুমার বেশ কিছু এলাকায় গত দুই মাস ধরে জাল লটারি বিক্রি করছে অসাধু কারবারিরা। শুধু ছাপানোর খরচ বাদে পুরোটাই লাভ। জানা গিয়েছে, এজেন্ট রেখে বহরমপুর শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিক্রি করা হয়েছে এই লটারি।
নামী ব্র্যান্ডের লটারিতে মোটা টাকা পাওয়ার আশায় লাগাতার টিকিট কেটে গেলেও মিলছে না পুরস্কার। বারবার টিকিট কেটে পুরস্কার না পাওয়ায় ওই নির্দিষ্ট কোম্পানির টিকিট কাটতে অনীহা শুরু হয় মানুষের। তারপর ব্যাপারটি কোম্পানির নজরে আসে। কোম্পানির তরফ থেকে বহরমপুর থানায় এসে বিষয়টি জানাতেই শুরু হয় তল্লাশি। বহরমপুরের হরিদাসমাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিস শুক্রবার রাতে অমরনাথ ঘোষ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তার বাড়ি জিয়াগঞ্জ থানা এলাকায়। তার একটি দোকানে হানা দিয়ে নির্দিষ্ট লটারি কোম্পানির ৪৩০০টি নকল টিকিট উদ্ধার করেছে পুলিস। গত দু’মাস ধরে এভাবেই নকল টিকিট ছাপিয়ে এনে সেগুলি বিক্রি করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলেই জানিয়েছে পুলিস আধিকারিকরা।
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিসকে অমরনাথ জানিয়েছে, নিজের দোকান থেকে সে যেমন টিকিট বিক্রি করত, তার পাশাপশি কিছু এজেন্ট সেখান থেকে বহরমপুরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিত এই টিকিট। তার বিনিময়ে মোটা টাকা কমিশন পেত তারা। তবে এজেন্টরা যে নকল লটারি বিক্রি করছে, সেটা তারা জানত কি না, সে ব্যাপারেও পুলিস তদন্ত শুরু করেছে।
বহরমপুর থানার আইসি উদয়শঙ্কর ঘোষ বলেন, একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির টিকিট হুবহু নকল করে তারা ছাপিয়ে আনত। কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা সংলগ্ন এলাকায় ছাপানো হতো নকল টিকিট। সেখান থেকে এরা হাজার হাজার লটারির টিকিট মুর্শিদাবাদ এবং জঙ্গিপুরের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করত বলে জানিয়েছে। এই চক্রে আর কারা কারা জড়িত আছে, সে ব্যাপারে আমরা তদন্ত শুরু করেছি।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নামী কোম্পানির লটারির টিকিটের কালার প্রিন্ট আউট নিয়ে নকল নম্বর বসিয়ে সেগুলি বিক্রি করা হত। স্বভাবতই এই ভুয়ো লটারির টিকিট কেটে সাধারণ মানুষ কোনও পুরস্কার পেতেন না। মাসখানেক ধরে বহরমপুরে যে এমন কাণ্ড ঘটছে, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট লটারি কোম্পানির কর্ণধারদের কাছে খবর পৌঁছয়। বহরমপুরে এসে তারা পুলিসকে বিষয়টি জানান। জাল লটারি চক্রের খবর পেয়ে পুলিস শহরের বেশ কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালায়। ওই কোম্পানির তরফে এক ব্যক্তি পুলিসের সঙ্গে ছিলেন। অবশেষে হরিদাসমাটির একটি গোপন ডেরা থেকে অমরনাথকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপর জাল লটারির টিকিটের কারবারের পর্দাফাঁস হয়।