নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: অল্প টাকায় লটারি কেটে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখেন অনেকেই। এরফলে গোটা জেলাজুড়ে দেদার বিক্রি হয় লটারির টিকিট। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরজুড়ে বাড়ছে জাল লটারির টিকিটের কারবার। সেইসব টিকিট কিনে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এনিয়ে সিআইডি তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। জেলাবাসীর কথায়, গ্রামের মতো মেদিনীপুর শহরেও ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে লটারির দোকান। জেলাজুড়ে একদিনে প্রায় কোটি টাকার লটারির টিকিট বিক্রি হয়। একদিকে মেদিনীপুর শহর, কেশপুর, গড়বেতা, চন্দ্রকোণা রোড এমনকী খড়গপুর মহকুমার দাঁতন সহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে জাল লটারি।
মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, জাল লটারি বিক্রি হচ্ছে শুনেছি। এতে সাধারণ মানুষের ক্ষতি হচ্ছে। সিআইডির তদন্ত করার দরকার রয়েছে। সাধারণ মানুষকেও সতর্ক হতে হবে।
প্রসঙ্গত, লটারির টিকিট কাটার পর ভাগ্য ভালো হলে তবেই রাতারাতি লাখপতি বা কোটিপতি হতে পারে কেউ। সেই স্বপ্ন দেখেন বহু সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। চলে ভাগ্যের পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় অনেকেই সফল হন। অনেকেই লটারি কেটে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে এলাকায় সেলিব্রিটিও হয়ে যান। পাশাপাশি এই টিকিট বিক্রি করেই অনেক যুবক স্বনির্ভরও হচ্ছেন। তবে ভাগ্যের চাকা না ঘুরলে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন। এছাড়া লটারির বড় নামীদামি কোম্পানির থেকে মোটা অঙ্কের রাজস্বও পায় সরকার। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বহু মানুষের নেশায় পরিণত হয়েছে এই খেলা। রাজ্যের জেলাগুলির মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় লটারির বিশেষ প্রচলন রয়েছে। কিন্তু জঙ্গলমহলের এই জেলায় বেআইনিভাবে জাল লটারির টিকিট বিক্রি আচমকা বেড়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
এক ক্রেতা জানাচ্ছেন, জাল লটারির টিকিট হুবহু একইরকম দেখতে। আসল লটারি খেলার রেজাল্টের সঙ্গে মিল রেখে এই লটারির রেজাল্ট তৈরি হয়। জাল লটারির পাঁচটি টিকিটের দাম ৩০ টাকা মতো পড়ে। জাল লটারিতেও কিউআর কোড ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কাগজটা আসল লটারির থেকে আলাদা। শুনেছি মেদিনীপুর জেলাতেই জাল লটারি ছাপানো হয়।
এক লটারি বিক্রেতা বলেন, জাল লটারিতে প্রাইজও ওঠে। ধরা যাক অসাধু ব্যবসায়ীরা জাল লটারি বিক্রি করে মার্কেট থেকে ১০ কোটি টাকা তুলল। তার মধ্যে এক কোটি টাকা প্রাইজ হিসেবে বিলিয়ে দিল, বাকি টাকা তাদের লাভ। এতে সরকারকে রাজস্ব দিতেও হচ্ছে না। বহু প্রভাবশালী লোক এই কাজের সঙ্গে যুক্ত।
এদিন মেদিনীপুর শহরে লটারি কিনতে আসেন শ্যামল ঘোষ। তিনি বলেন, দিনে পাঁচশো টাকা রোজগার হলে ওই একশো টাকার লটারি কাটি। কপালে যদি কোটি টাকা আসে। জাল লটারি দেখছি। সাধারণ মানুষকে লুটে নিচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী।
এনিয়ে কটাক্ষের শুরু বিজেপি নেতাদের গলায়। জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, জাল লটারির মূল কারিগর তৃণমূল। সিআইডি তদন্তের মাধ্যমে ধাপাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলবে। সৎ সাহস থাকলে সেন্ট্রাল এজেন্সি দিয়ে তদন্ত করা হোক।