Bartaman Logo
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্বাস্থ্যসাথী থেকে কোটি কোটি টাকা লুটেছে ভুয়ো চিকিৎসক সাইদুল

স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে কয়েক কোটি টাকা তছরুপ করেছে ভুয়ো ডাক্তার সাইদুল হক। সে ২৬টি নার্সিংহোমে অপারেশন করত। স্বাস্থ্যদপ্তর প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে, সাইদুল ছোট অপারেশন করে মোটা টাকা বিল তুলেছে।

স্বাস্থ্যসাথী থেকে কোটি কোটি টাকা লুটেছে ভুয়ো চিকিৎসক সাইদুল
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে কয়েক কোটি টাকা তছরুপ করেছে ভুয়ো ডাক্তার সাইদুল হক। সে ২৬টি নার্সিংহোমে অপারেশন করত। স্বাস্থ্যদপ্তর প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে, সাইদুল ছোট অপারেশন করে মোটা টাকা বিল তুলেছে। একসময় স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে তেমন কড়াকড়ি ছিল না। অপারেশনের আগে বা পরের ছবি পাঠানোর দরকার হত না। সেই সুযোগটাই সাইদুলের মতো ভুয়ো চিকিৎসকরা কাজে লাগিয়েছে। তারা অপারেশন না করেও টাকা তুলেছে বলে অভিযোগ। ওই ২৬টি নার্সিংহোম স্বাস্থ্যদপ্তরের স্ক্যানারে রয়েছে। নার্সিংহোমগুলির নথি ঠিক রয়েছে কি না তা যাচা‌ই করা হবে। সাইদুল বর্ধমানে অত্যন্ত প্রভাবশালী হিসাবে পরিচিত ছিল। তৎকালীন শাসকদলের নেতাদের সঙ্গেও তার গভীর সম্পর্ক ছিল। সেই সুযোগ সে কাজে লাগিয়েছে।

Advertisement

স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে পাঁচজন চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু সন্দেহভাজনের তালিকায় বহু নাম রয়েছে। সেকারণে ২০১০সালের পর থেকে সমস্ত রেজিস্ট্রেশন যাচাই করা হচ্ছে। সাইদুল রেজিস্ট্রেশন বিক্রি চক্রের অন্যতম মূল মাথা ছিল। সে চার মাস আগেও ‘দেব’ নামে একজনকে রেজিস্ট্রেশন পাইয়ে দিয়েছে। আধিকারিকরা সাইদুলের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর খোঁজ পেয়েছেন। আনিসুর নামে তার ওই বন্ধু স্কুলের গণ্ডি পার হয়নি। অথচ সেও নবাবহাটের কাছে একটি নার্সিংহোমে অপারেশন করত বলে অভিযোগ। সে প্রায়শই ভোরের দিকে ওটিতে ঢুকত। কী কারণে সে ভোরে অপারেশন করত তা নিয়েও আধিকারিকদের সন্দেহ বেড়েছে। অপারেশন করার সময় মাত্র দু’জন স্টাফ তার সঙ্গে থাকত। ওইসময় সে গর্ভপাতের মতো অপরাধ করত কিনা সেটাও আধিকারিকরা খতিয়ে দেখছেন। বিজেপি নেতা রামানন্দ মজুমদার বলেন, বহু ভুয়ো ডাক্তার রয়েছে। তৃণমূলের জমানায় তাদের বাড়বাড়ন্ত হয়েছিল। তারা বিদেশ থেকে ডিগ্রি এনেছে বলে দাবি করত। নামের পাশে ইচ্ছেমতো ডিগ্রি লিখে তারা প্র্যাকটিস করছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বহু মানুষের প্রাণ যাবে।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বর্ধমান শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ  এলাকাতেও ভুয়ো ডাক্তারদের রমরমা রয়েছে। একশ্রেণির নার্সিংহোম মালিকের মদতেই তাদের রমরমা বাড়ছে। ওই নার্সিংহোমগুলির পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, সাইদুল হকের রেজিস্ট্রেশন ভুয়ো বলে প্রমাণ মিলেছে। তার বিরুদ্ধে থানায় রিপোর্ট করা হয়েছে। আনিসুরের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেও বেশ কয়েকটি অপারেশন করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প থেকে কোনো ভুয়ো ডাক্তার সুবিধা নিয়েছে কিনা সেই তালিকাও তৈরি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে আগেই অনিয়মের অভিযোগ জমা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ