নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফেসবুক প্রোফাইলে নিজের সম্পর্কে লেখা, ‘কল্যাণী এইমসের সার্জেন’! নামী হাসপাতালের চিকিৎসক পরিচয়ের আড়ালেই চলত যাবতীয় দুষ্কর্ম। অভিযোগ, এই ‘এইমসের ডাক্তার’ এসএসকেএম হাসপাতালের এক নার্সকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। তারপর তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস ও নানা অছিলায় তাঁর থেকে ১৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এমনই অভিযোগে রিজেন্ট পার্ক থানার দ্বারস্থ হয়েছেন রাজ্যের অন্যতম সেরা সরকারি হাসপাতালে কর্মরত ওই নার্স। তাঁর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। অভিযুক্তের নাম সৌভিককুমার জানা। লালবাজার সূত্রে খবর, কয়েকমাস আগেও সার্জেন পরিচয়ে আরও এক নার্সের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। সেই মামলায় অভিযুক্তকে শ্রীঘরেও কাটাতে হয় কিছুদিন।
পিজি হাসপাতালের প্রতারিত নার্সের দাবি, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সৌভিকের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পরিচয় হয়। নিজেকে কল্যাণী এইমসের নিউরো সার্জেন বলে পরিচয় দেয় সে। পুলিস জেনেছে, অভিযুক্ত যুবক পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদার বাসিন্দা। পরিচয়ের কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁরা ফোন নম্বর আদানপ্রদান করেন। ধীরে ধীরে দু’জনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক সময় এসএসকেএমের ওই নার্সকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় ‘এইমসের ডাক্তার’। প্রস্তাবে সম্মতিও দেন নার্স। এরপর তাঁকে বেশ কয়েকবার খড়্গপুরের একটি হোটেলে নিয়ে যায় সৌভিক। দু’জনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয় বলে পুলিসকে জানিয়েছেন তরুণী।
সম্পর্ক যখন আরও পোক্ত হয়, তখনই বিয়ে থেকে পিছিয়ে আসে অভিযুক্ত। তরুণীকে সে জানায়, পরিবারিক কিছু জটিল সমস্যায় সে ফেঁসে গিয়েছে। এখন অনেক টাকা প্রয়োজন। এই কথা বলে সে দফায় দফায় ১৫ লক্ষ টাকা নেয় নার্সের কাছ থেকে। প্রথম দফায় ভুয়ো ডাক্তারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই টাকা পাঠান তিনি। পরের বার নিজের অ্যাকাউন্টে টাকা নেয়নি সৌভিক। তার খুড়তুতো ভাই তুফান মাইতির অ্যাকাউন্টে ৩ লক্ষ টাকা নেয় সে। তাই তার নামেও রিজেন্ট পার্ক থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তরুণী। তাঁর আরও অভিযোগ, পরবর্তীতে নিজের অসুস্থতার কথা বলেও ৪ লক্ষ টাকা নগদ নেয় সে। এতসবের মধ্যেও টালিগঞ্জে তরুণীর ফ্ল্যাটে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয় তাদের। তারপর আচমকা একদিন সৌভিক ওই তরুণীর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। নানা উপায়ে যোগাযোগ করে বারবার টাকা ফেরত চাইলেও পাননি তরুণী। অন্য কোনও উপায় না পেয়ে তিনি রিজেন্ট পার্ক থানায় অভিযোগ করেন।
লালবাজার জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। কিন্তু, এখনও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। সৌভিক ও তার ভাই তুফান ফেরার। লালবাজারের এক কর্তা জানান, এর আগে বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সের সার্জেন পরিচয় দিয়ে এন আর এস হাসপাতালের এক নার্সের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করেছিল সৌভিক। সেই প্রেমিকার থেকে ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছিল। তদন্তে নেমে সৌভিককে গ্রেপ্তারও করেছিল লালাবাজারের সাইবার থানা।