Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নাবালিকাদের অপহরণ করে আটকে রাখার অভিযোগ, লিলুয়ায় গ্রেপ্তার ভুয়ো দম্পতি

অপহরণের মামলার তদন্তে নেমেছিল পুলিস। কিন্তু ব্রেক-থ্রু মিলল অপহৃত নাবালিকার উপস্থিত বুদ্ধিতে।

নাবালিকাদের অপহরণ করে আটকে রাখার অভিযোগ, লিলুয়ায় গ্রেপ্তার ভুয়ো দম্পতি
  • ১৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর:  অপহরণের মামলার তদন্তে নেমেছিল পুলিস। কিন্তু ব্রেক-থ্রু মিলল অপহৃত নাবালিকার উপস্থিত বুদ্ধিতে। যার সুবাদে ভাটপাড়া থানার পুলিস বুধবার রাতে হাওড়ার লিলুয়া থেকে অপহরণ কাণ্ডের পাণ্ডা দিল্লির এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের হেফাজতে থাকা ভাটপাড়ার নাবালিকার পাশাপাশি হলদিয়ার সুতাহাটা থানা এলাকার এক নাবালিকাকেও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের নাম অমিত সিং ওরফে ঋষিপাল ও মণিকা সিং। তারা লিলুয়ার ভাড়া বাড়িতে স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে থাকছিল। দিল্লিতে তাদের বিরুদ্ধে অপহরণের পুরনো মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ধৃতদের বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক দু’জনকেই সাতদিনের পুলিস হেফাজতে নির্দেশ দিয়েছেন। তারা এর আগে কতজনকে অপহরণ করেছে, অপহৃত নাবালিকাদের কোথায় পাচার করেছে, পুলিস তা জানার চেষ্টা করছে।

Advertisement

পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ভাটপাড়া থানায় একটি অপহরণের অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। নাবালিকা বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। ভাটপাড়া থানার এসআই মনিরুল মোল্লার নেতৃত্বে পুলিস তদন্ত শুরু করে। ইতিমধ্যে ওই নাবালিকা বুধবার রাতে কোনওভাবে ওই দম্পতির ভাড়া বাড়ি থেকে বেরিয়ে পুলিসকে ফোন করে। রাতেই ভাটপাড়া থানার পুলিস পৌঁছে হাওড়ার লিলুয়া এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস জানতে পারে, হাওড়া স্টেশন থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল ঋষিপাল। লিলুয়ার একটি বাড়িতে তাকে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাকে যৌন নিগ্রহ করা হয়। পরে আরও এক নাবালিকাকে এনে একইভাবে আটকে রেখে তাকেও যৌন নিগ্রহ করা হয়। ছক ছিল তাদের অন্য জায়গায় বিক্রি করে দেওয়ার। এরপর পুলিস দম্পতির ওই ভাড়া বাড়িতে হানা দেয়। সেখান থেকে তাদের হাতেনাতে পাকড়াও করার পাশাপাশি সুতাহাটার নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জেনেছে,  ধৃতরা দম্পতি পরিচয় দিয়ে ঘর ভাড়ায় নিয়েছিল। ঋষিপালের কাজ ছিল হাওড়া স্টেশনে ওত পেতে থাকা। একা কোনও নাবালিকাকে কান্নাকাটি করতে দেখলেই সে তাদের ভুল বুঝিয়ে ওই ভাড়া বাড়িতে নিয়ে আসত। এরপর সুযোগ বুঝে অন্যত্র পাচার করত। বারাকপুরের ডেপুটি পুলিস কমিশনার গণেশ বিশ্বাস বলেন, দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে কোনও পাচার চক্রের যোগ রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ