সংবাদদাতা, কাটোয়া: হুগলির বৈদ্যবাটি থেকে গ্রেপ্তার হল ভুয়ো কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স অফিসার। মঙ্গলকোট থানার পুলিসের একটি দল বুধবার রাতে বৈদ্যবাটিতে অগস্ত্য পাঁজা নামে ওই অভিযুক্তের বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। ধৃত পেশায় বিজ্ঞানের গৃহশিক্ষক। গৃহশিক্ষকতার পাশাপাশি এই ধরনের প্রতারণাও সে চালিয়ে যাচ্ছিল। গত মঙ্গলবার সে কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স অফিসার পরিচয় দিয়ে মঙ্গলকোটের একটি সোনার দোকানে হানা দেয়। সোনার দোকান মালিকের কাছে নানা নথি দেখতে চায়। বেশকিছু নথি না রাখার জন্য গ্রেপ্তারির ভয় দেখিয়ে মালিকের কাছ থেকে ২২ হাজার টাকা আদায় করে চম্পট দেয়। বৃহস্পতিবার ধৃতকে কাটোয়া মহকুমা এসিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক তার ৪ দিনের পুলিস হেফাজত মঞ্জুর করেন।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলকোটের খতিয়ার বাজারে সোনার ছোট্ট একটি দোকান রয়েছে অরূপকুমার ঘোষের। তাঁর বাড়ি মঙ্গলকোটের আমডোব এলাকায়। তিনি বুধবার মঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগ করে জানান, গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ তাঁর দোকানে বাইকে চড়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি আসে। সে নিজেকে কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স অফিসার বলে পরিচয় দেয়। এমনকী আরও অফিসার অভিযান চালাতে আসছে বলেও জানায় অরূপবাবুকে। এও বলে যে, সোনার দোকান চালাতে গেলে নানা নথি রাখা নাকি প্রয়োজন। অরূপবাবু অভিযুক্তের চাহিদা মতো সে সব নথি দেখাতে পারেননি। অভিযোগ, এরপর ধৃত গ্রেপ্তারির ভয় দেখিয়ে অরূপবাবুর কাছে কাছে ঘুষ হিসেবে এক লক্ষ টাকা দাবি করে। ওই টাকা দিয়ে দিলে অরূপবাবুর কিচ্ছু হবে না বলে প্রতিশ্রুতিও দেয়। তিনি ভয়ে ২২ হাজার টাকা নগদ ওই নকল ভিজিল্যান্স অফিসারকে দিয়ে দেন। টাকা নিয়ে ধৃত ব্যক্তি সেখান থেকে চম্পট দেয়।
পরে ভুল বুঝতে পেরে মঙ্গলকোট থানার দ্বারস্থ হন অরূপবাবু। পুলিসকে সব খুলে বলেন। এমনকী ধৃতের বাইকের নম্বরও দেন। মঙ্গলকোট থানার পুলিস তদন্তে নেমে বাইকের নম্বর ধরে ওই ভুয়ো কেন্দ্রীয় অফিসারের বাড়ির ঠিকানা জোগাড় করে। তারপর বুধবার রাতে সেই ঠিকানায় হানা দিয়ে তাকে জালে তোলে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, অগস্ত্য পাঁজা প্রাইভেট টিউশনের আড়ালেই সে ভুয়ো কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স অফিসার সেজে বিভিন্ন জায়গায় হানা দিয়ে প্রতারণার কারবার চালাত। এখন চারিদিকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অভিযান চলছে। তাই মঙ্গলকোটের ওই ব্যবসায়ীও প্রথমে ঘাবড়ে যান। তাছাড়া অভিযুক্ত চোস্ত ইংরেজিতে সাবলীল ভাবে কথা বলছে দেখে সন্দেহ জাগেনি। পরে বাইকে চড়ে কেন্দ্রীয় অফিসার অভিযানে আসছে, এই বিষয়টি তাঁকে ভাবায়। তখনই মনে সন্দেহ জাগে ওই ব্যবসায়ীর। কিন্তু ততক্ষণে ধৃত পগার পার।
অভিযোগ, মঙ্গলকোটে বেশ কয়েক জায়গায় ধৃত ব্যক্তি ‘অভিযান’ চালিয়েছিল। কিন্তু কোথাও সেভাবে সুবিধা না করতে পেরে খতিয়ার এলাকায় যায়। মঙ্গলকোট থানার পুলিস ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা চালাচ্ছে যে, আর কোথায় সে এরকম প্রতারণা করেছে। ধৃতের পিছনে কোনও চক্র রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।