Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হুগলিতে এবার ‘ভুয়ো বিএলও’! পূরণ করা ইনিউমারেশন ফর্ম নিয়ে পগারপার

ভুয়ো পুলিশ, ভুয়ো সিবিআই আধিকারিক বা ভুয়ো ইডি কর্তার খবর শোনা যায়। সাধারণত লোক ঠকানোর জন্যই প্রতারকরা এমন কৌশল নিয়ে থাকে।

হুগলিতে এবার ‘ভুয়ো বিএলও’! পূরণ করা ইনিউমারেশন ফর্ম নিয়ে পগারপার
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১৬:১১
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তারকেশ্বর:  ভুয়ো পুলিশ, ভুয়ো সিবিআই আধিকারিক বা ভুয়ো ইডি কর্তার খবর শোনা যায়। সাধারণত লোক ঠকানোর জন্যই প্রতারকরা এমন কৌশল নিয়ে থাকে। রাজ্যজুড়ে এসআইআর আবহে এবার সামনে এল ভুয়ো বিএলও! বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলওরা আগেই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম দিয়ে এসেছেন। এখন পূরণ করা ফর্ম বাড়ি থেকে সংগ্রহ করছেন তাঁরা। এই পর্ব চলাকালীন চমকপ্রদ ঘটনা ঘটল হুগলির জাঙ্গিপাড়া ব্লকের রাজবলহাট-১ পঞ্চায়েতের ঘোষপাড়ায়। রবিবার মুখে মাস্ক লাগানো এক ব্যক্তি নিজেকে ওই বুথের বিএলও হিসেবে পরিচয় দিয়ে পরপর তিনটি বাড়িতে যান। দু’টি পরিবার সাত-পাঁচ সন্দেহ করে তাকে শেষ পর্যন্ত পূরণ করা ইনিউমারেশন ফর্ম দেয়নি। কিন্তু অজিত ঘোষের পরিবার তাদের পাঁচ সদস্যের ইনিউমারেশন ফর্ম তার হাতেই তুলে দেয়। কিছুক্ষণ পর বাড়িগুলিতে আসেন আসল বিএলও। আকাশ থেকে পড়েন অজিত ঘোষের পরিবারের সদস্যরা। দু’টি পরিবার বুঝতে পারে, তাদের সন্দেহ ভুল ছিল না। ততক্ষণে অবশ্য পাঁচটি ফর্ম নিয়ে নকল বিএলও পগার পার! আশপাশে খোঁজ চালিয়ে এরকম কারও হদিশ পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তের মুখে মাস্ক থাকায় কেউ ভালোভাবে চিনেও রাখতে পারেনি তাকে। এমন ঘটনায় স্বভাবতই শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায় এবং প্রশাসনের অন্দরে। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও।

Advertisement

ঘোষপাড়ার ১৭ নম্বর বুথের বিএলও দীপঙ্কর সামন্ত বলেন, ‘ওই এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফর্ম জমা নেওয়ার সময় জানতে পারি, আমার আগেই একজন কয়েকটি বাড়িতে এসেছিল ফর্ম জমা নিতে। অপরিচিত দেখে দু’টি পরিবার তাকে ফর্ম দেয়নি। একটি পরিবারের পাঁচজনের ফর্ম নিয়ে গিয়েছে সে। বিষয়টি আমি বিডিও অফিসকে বিস্তারিত জানিয়েছি।’ জাঙ্গিপাড়ার বিডিও পল্লব মুখোপাধ্যায় জানান, অজ্ঞাতপরিচয় ওই ব্যক্তি কয়েকটি বাড়িতে গিয়েছিল। একটি বাড়ি থেকে কয়েকটি ফর্ম নিয়ে গেছে। থানায় অভিযোগ হয়েছে।
এই ঘটনায় যথারীতি শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি নেতা প্রসেনজিৎ বাগ বলেন, ‘মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য তৃণমূল চক্রান্ত করে এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। তারা প্রথমে এসআইআরের বিরোধিতা করেছিল। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে জাঙ্গিপাড়ায় তৃণমূল পরাজিত হবে। তাই বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক ছড়াতে নেমে পড়েছে।’  পাল্টা দিতে দেরি করেনি তৃণমূল। রাজবলহাট-১ পঞ্চায়েতের তৃণমূল যুব সভাপতি নঈম মল্লিক বলেন, ‘মানুষ তৃণমূলের উপর ভরসা রাখছে দেখে বিজেপিই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। তাই তৃণমূলের নামে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে।’ পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মাস্ক পরে এসেছিল। তাকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। 
জাঙ্গিপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তমাল শোভন চন্দ্র জানান, ভুয়ো বিএলও যাঁদের ফর্ম নিয়ে গিয়েছে, তাঁদের দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ