Bartaman Logo
২৯ জুলাই, ২০২৬
Advertisement
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপির সুকুমারের পথের কাঁটা ফয়েজউদ্দিন, কল্পনারা

কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি বিধায়ক সুকুমার রায়ের পথের কাঁটা এবার ফয়েজউদ্দিন আহমেদ, কল্পনা কার্জিরাই। না তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রী নন।

বিজেপির সুকুমারের পথের কাঁটা ফয়েজউদ্দিন, কল্পনারা
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি বিধায়ক সুকুমার রায়ের পথের কাঁটা এবার ফয়েজউদ্দিন আহমেদ, কল্পনা কার্জিরাই। না তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রী নন। সাধারণ ভোটার। ফয়েজউদ্দিন সাহেবের বাড়িতে সকলেই রাজ্য সরকারের কোনো না কোনো প্রকল্পের সুবিধা পান। যা হিসাব করলে বছরে এক লক্ষ টাকারও বেশি হয়। কি নেই সেই তালিকায়? স্ত্রী ফতেজা বিবি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তাঁরা দু’জনেই বিয়ের আগে-পরে রূপশ্রী পেয়েছেন তিনবারে মোট ৭৫ হাজার টাকা। মা বৃদ্ধ ভাতা পান। বাবা বৃদ্ধ ভাতা না পেলেও পরিবারের সামান্য জমির উপরেই কৃষক বন্ধু প্রকল্পে বছরে চার হাজার টাকা পান। ফয়েজউদ্দিন সাহেব বনদপ্তরের কর্মী। বাড়ি পাতলাখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ছাট সিঙিমারি গ্রামে। এলাকায় যে উন্নয়ন হয়েছে তা আগে কখনও হয়নি। রাস্তাঘাট বদলে গিয়েছে, দাবি তাঁর। ওদিকে ঢাংঢিংগুড়ি, গোপালপুর প্রভৃতি এলাকায় বিরাট চওড়া রাস্তা হয়েছে। খোদ সিপিএমের সমর্থক নগেন্দ্রনাথ রায় দাবি করছেন, এলাকার রাস্তাঘাট বদলে গিয়েছে। বাণেশ্বরের হাতিডুবা গ্রামের বাসিন্দা কল্পনা কার্জি, কুন্তি কার্জিরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পান। তাঁরা সেই টাকা জমাচ্ছেন। প্রয়োজনে সংসারের কোনো জিনিস কেনেন। রাজ্য সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া প্রায় প্রতিটি বাড়িতেও পৌঁছে গিয়েছে। 

Advertisement


আর এর ঠিক বিপরীতে দাঁড়িয়ে বিজেপি। কিন্তু এই কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন দেখাতে পারছে না। এই বিধানসভার এমএলএ সুকুমার রায়ের ছেলের বিরুদ্ধে কিছুদিন আগে চকচকায় এক তৃণমূল নেতাকে গুলি করার অভিযোগ উঠেছিল। যার ফলে বিধায়কপুত্রকে জেল খাটতে হয়েছে। ওই ঘটনায় বিধায়কের গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছিল। নির্বাচনের আগে এই ধরনে ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে রয়েছে বিজেপি। যদিও বিধায়কের দাবি, ভাতা দিয়ে মানুষের মন আর জয় করা যাবে না। কথা হচ্ছিল ফয়েজউদ্দিন সাহেবের সঙ্গে। তিনি বলেন, ২০০৫ সাল থেকে চাকরি করি। বাড়িতে সামান্য জমি আছে। আমার স্ত্রী, দুই মেয়ে, মা সকলেই রাজ্য সরকারের কোনো না কোনো প্রকল্পের সুবিধা পান, পেয়েছেন। এছাড়াও স্বাস্থ্যসাথী কার্ড আছে। কৃষক বন্ধুর টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢোকে। হাতিডুবার বাসিন্দা কল্পনা কার্জি, সুশান্তিনারায়ণ কার্জি, কুন্তি কার্জিরা বলেন, আমরা সকলেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিয়মিত পাচ্ছি। দিদি টাকা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। এতে আমরা খুশি। গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ছাগলব গ্রামের বাসিন্দা মটেশ্বর দাস পেশায় কৃষক। তিনি বলেন, আমার মা ও স্ত্রী দু’জনেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন। রাজ্য সরকারের এত ধরনের সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে মানুষ। নির্বাচনের আগে সকলেই তো কেন্দ্র ও রাজ্যের থেকে পাওনাগণ্ডার হিসাব করবেন। আপনার এলাকায় কি উন্নয়ন হয়েছে, এই প্রশ্নের উত্তরে কোচবিহার উত্তর বিজেপি বিধায়ক সুকুমার রায়ের জবাব, মানুষ এবার ভাতায় ভুলবে না। এসব পথের কাঁটা নয়। উল্টো উন্নয়নের নামে টাকা লুট করে দুর্নীতি করেছে তৃণমূল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ